শ্রাবন্তীদের আদিখ্যেতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন অভিনেতা শিমুল খান!

 
গত দুই/তিন বছর ধরে যৌথ প্রযোজনার ছবির নামে বা কাজের স্বার্থে একাধিক তারকা শিল্পীরা দেশে আসছেন। আর এই দেশে আসার সূত্রে একটি বিষয় খুব কমন পড়ে সকল অতিথি তারকাদের।
 
তা হলো, প্রায় সকল অতিথি তারকারাই দেশিয় মিডিয়ায় ইন্টারভিউতে বলেন যে, তাদের পূর্বপুরুষের কেউ না কেউ থাকতো। এদেশই তাদের আদি ভিটা! কিন্তু হঠাত্ এই দেশে এসেই ছবি সাইন করার সময়ই তারাকদের পূর্বপুরুষদের সাথে এই আত্মীয়করনের কথা মনে পড়ার বিষয়টি অনেককেই অবাক করে!
 
এই বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি প্রতিভাবান চলচ্চিত্রশিল্পী শিমুল খান সোচ্চার হয়েই একটি স্ট্যাটাস দেন। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, শিমুলের সেই স্ট্যাটাসে তার কলিগ অর্থাত্ কোনো অভিনয় শিল্পীই তার পক্ষে কোনো কমেন্ট করেনি। এমনকি কোনো লাইক বা ফেসবুকে কোনো প্রতিক্রিয়াও জানাননি এ নিয়ে!
IMG0
একই সাথে মিডিয়া ও অতিথি শিল্পীদের বাড়াবাড়ি কাভারেজ নিয়েও ইদানিং অনেকে প্রতিক্রিয়া জানালেও তা সাংবাদিকদের বলছেন অফ দ্যা রেকর্ডে ! পাছে তার কোনো নতুন ছবি না জানি হাতছাড়া হয়ে যায়! বিদেশী শিল্পীদের কাজ করার স্বার্থে এসেই তাদের সেই একই রকম কথা বা পুরোনো আত্মীয়দের নাম ঠিকানা নিজের মতো করে জুড়িয়ে দেবার চর্চাকেও অনেকেই তীব্র সমালোচনা করেছেন এং সেটিও অফ দ্যা রেকর্ডে ! শুধু ব্যতিক্রমী থেকেছেন এই তরুন অভিনেতা।
 
একটি ব্যাপার অন্তত স্পষ্ট যে, কলকাতার উঠতি বা জনপ্রিয় শিল্পীদের পুরনো ভিটে-মাটি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি তাদের এই হাহাকারের গল্প ভারতীয় মিডিয়ায় পাওয়া যায় না কখনও! শুধু তারা দেশে এসে ছবি সাইন করার পরই ভিটে মাটি, নানা-দাদীসহ পূর্বপুরুষদের গল্প শুরুহয় এবং তা ফলাও করে প্রচার হয়!
IMG1
শিমুল খান তার স্ট্যাটাসে মূলত এই আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলারই প্রতিবাদ করেছেন। শিমুলের স্ট্যাটাসের বক্তব্য ছিল অনেকটা এরকম, ‘পেশাগত কাজের স্বার্থ ছাড়া কোলকাতার একমাত্র শিল্পী নচিকেতা বাদে কখনো অন্য কোন শিল্পীকে দেখিনি, শুধুমাত্র নিজের পূর্বপুরুষের ভিটার টানে কখনো বাংলাদেশে ভ্রমন করতে এসেছেন। অথচ ভারতীয় অন্য শিল্পীরা পেশাগত কাজে আমাদের দেশে এসেই; একাধিক পত্রিকার সাক্ষাত্কার কপচাইয়া বলেন আমি বরিশালের মাইয়া কিংবা আমি ঢাকাইয়া পোলা ইত্যাদি  । উফফ! শুনুন আমরা ভারত কে এমনিতেই চরম বন্ধুভাবাপন্ন দেশ মনে করে আপনাদেরকে ভালবাসি; আর তাই আপনাদের জন্য আমরা সবসময়ই আন্তরিক ।
অতএব আপনাদের পায়ে ধরি, আমাদের ভালবাসা পাবার জন্য আপনারা আর কখনোই; এই রকম প্রতারনামূলক কথাবার্তা বলবেন না প্লিজ। দয়া করে মনে রাখবেন, আমাদের জাতীয় আবেগ নিয়ে ছেলেখেলা করার অধিকার; আমরা কখনো কাউকেই দেইনি আর দেবোওনা কোনদিন।’

এই স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে অভিনেতা শিমুল খান বলেন, ‘ভাই আমি আপাতত আর প্রতিবাদী হবো না। কি লাভ বলেন? আমি একাই শত্রু হচ্ছি। সম্প্রতি যৌথ প্রডাকশনের সেই প্রযোজকের দুটি ছবি থেকে আমায় বাদ দেয়া হয়েছে।  তবে কারো তোষামোদী করে আমি কখনও কাজ করতে পারবো না এমনকি করতেও চাইনা। যারা যোগ্যতা বিচারে কাজে নেন, তারাই কাজের কদরটা বোঝেন। কিন্তু খুবই কষ্ট লাগে যখন এ ধরনের প্রতিক্রিয়ায় কোনো কাছের কলিগদেরও রেসপন্স পাই না। অথচ শোবিজ তারকা অনেকেই আমার এফবি লিস্টে আছে। কি অবাক সুবিধাবাদিতায় নিজেদের আত্মসম্মানটুকুও বাজারজাত করছি আমরা !’