সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তায় সরকারকে কঠোর হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিজ্ঞজনেরা। দিন দিন সংখ্যালঘুদের জমি দখল ও উচ্ছেদ এবং হামলা নির্যাতন বন্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন জাতীয় নাগরিক সমন্বয় সেলের সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। আরও উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, ব্লাস্টের প্রতিনিধি রেজাউল করিম প্রমুখ। সাংবাদিক সম্মেলনে দিনাজপুরের পার্বতীপুর সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ভোগ দখলীয় জমি জবরদখল চেষ্টা ও হামলার অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
পার্বতীপুরে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ভোগদখলীয় জমি জবরদখল ও হামলার নিন্দা জানিয়ে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, সঙ্গত কারণেই বর্তমান সরকার নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের সরকার বলে দাবি করে। স্বাধীনতার পক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ভূমিদস্যুদের আগ্রাসনে সংখ্যালঘু মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হবে তা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। তিনি সরকারকে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকলের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার দাবি জানান।
মূল প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫.৭৮ একর জমিতে ৪০টি হিন্দু ক্ষত্রিয় পরিবারসহ ৫৫টি পরিবার বংশ পরম্পরায় বসবাস ও ভোগদখল করে আসছে। কৃষি নির্ভর প্রায় সব পরিবারের আশ্রয় ও জীবিকা নির্বাহের জন্য এ জমিই একমাত্র অবলম্বন। ১৯৬৭-৬৮ সালে সরকার জমিগুলোকে শত্রুপক্ষের তালিকায় আনে। সর্বশেষ মাঠজরিপে প্রাথমিক খতিয়ানে (২০০৪) এটি খাসজমি হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়। উক্ত পরিবার ছাড়া জমিগুলো ইমদাদুল হক চৌধুরী বা অন্য কারো দখলে ছিল না। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইমদাদুল হক চৌধুরী এ জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তার জমি বলে দাবি করছে এবং আদালত তার পক্ষে রায় দিয়েছে এমন প্রচার করছে। বিগত কয়েকমাস সে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মীকে ব্যবহার করে হামলা পুলিশি হয়রানির মাধ্যমে পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করে জমি দখলে মরিয়া হয়ে উঠছেন। হামলা-মামলা নানা নির্যাতনের মধ্যে আছে পরিবারগুলো। এলাকার সংসদ সদস্যের কাছে সহায়তা চেয়েও কোনো সাহায্য পাননি বলে ভুক্তভোগীরা জানান। জমি দখলের উদ্দেশ্যে তারা উক্ত জমিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর জমি বলে উল্লেখ করেন। যদিও মন্ত্রী এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন।