কাঙ্খিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন না হওয়ার আশঙ্কা

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’-এর মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী প্রবণতা, একক পণ্য ও স্বল্প সংখ্যক বাজারে কেন্দ্রীভূত রপ্তানি এবং মাঝারি ও বৃহৎ উৎপাদন শিল্পে অদক্ষতার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশংকা করা হয়েছে। এছাড়া কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে সেবা খাতের মন্থর সম্প্রসারণও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
 
কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি হ্রাসের সাম্প্রতিক চিত্র উল্লেখ করে পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ ছিল। যা ১ দশমিক ৩৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হয়। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে এ খাতের প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী। ২০০৯-১০ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ ছিল। যা ২০১০-১১, ২০১১-১২, ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে যথাক্রমে ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ৩ দশমিক ১ শতাংশ ও ২ দশমিক ৪৬ শতাংশে নেমে আসে। 
 
প্রতিষ্ঠানটির পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক খাতের ওপর রপ্তানি আয়ের নির্ভরশীলতা আগের চেয়ে বেশি হয়েছে।
 
২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮২ দশমিক ৯ শতাংশ। রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্রতার অভাব দেশের বহিঃখাতের ভারসাম্য বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
 
উন্নয়ন অন্বেষণের পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, বৃহৎ এবং মাঝারি উৎপাদন শিল্পে ২০১০-১১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ১১ শতাংশ অর্জিত হয়। যা পরবর্তী চার বছরে আর অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ২০১১-১২ অর্থবছরে বৃহৎ ও মাঝারি উৎপাদন শিল্পে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। যা ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ হয়।