যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে বিক্ষোভের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সমাবেশ বাতিল হয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতদিন মানুষের মনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলেও এবারই প্রথম তা প্রকাশ্যে আসলো। গত শুক্রবার ডোনাল্ড-বিরোধীরা পন্ড করে দিয়েছে তার নির্বাচনী সমাবেশ। ট্রাম্প সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘর্ষের কারণে স্থানীয় প্রশাসন ট্রাম্পের সমাবেশ পন্ড করে দিতে বাধ্য হয়। মার্কিন ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম।
জানা গেছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। এই সমাবেশে যোগ দিতে বিপুল সংখ্যক সমর্থক জড়ো হতে থাকে। একইভাবে ট্রাম্পবিরোধীরা সেখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দুই পক্ষের মাঝামাঝি অবস্থান নেয়। কিন্তু এক পর্যায়ে পরিস্থিতি সেন্ট লুইস পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে উভয় পক্ষের মধ্যে। বিক্ষোভকারীরা সমাবেশস্থলের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পয়েন্ট নিজেদের দখলে নেয়। এসময় পুলিশ বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধের মুখে রিপাবলিকান দলের ট্রাম্প শিকাগো গেলেও সমাবেশস্থলে যেতে পারেননি। শিকাগো পুলিশের মুখপাত্র অ্যান্থনি কাউকে গ্রেপ্তার ও আহত হবার কথা অস্বীকার করেছেন। এক পর্যায়ে সেন্ট লুইস পুলিশের প্রধান নিরাপত্তার অভাবজনিত কারণে দেখিয়ে ট্রাম্পের সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
এদিকে ট্রাম্পবিরোধীরা বিভিন্ন স্লোগানে ইলিনয় বিশ্বাবদ্যালয় এলাকা প্রকম্পিত করে তোলে। সমাবেশ বাতিলের ঘোষণার পরও সমর্থকেরা ট্রাম্পকে সমাবেশ করার জন্য বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। অন্যদিকে ট্রাম্পের এই সমাবেশ পন্ড হওয়ায় বিক্ষোভকারীদের অনেকে রাস্তায় নাচানাচি শুরু করে। ৫৫ বছর বয়সের বিক্ষোভকারী মারলিন বলেন, এই বিক্ষোভে আমাদের জয় হয়েছে এবং এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ আমরা নিয়েছি। শিকাগোর বাইরে থেকে সমাবেশে যোগ দিতে আসা ট্রাম্প সমর্থক ৫৩ বছয় বয়সী দেবী প্যাট্রিক বলেন, এখানে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু তাতে বিক্ষোভকারীদের কোনো লাভ হবে না। ভোটে ঠিকই ট্রাম্প জয়ী হবেন।