‘সুন্দরবনে প্রকল্প হলে ৪ কোটি মানুষ হুমকিতে পড়বে’

সুন্দরবন ধ্বংসকারী বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে শুরু হওয়া বাগেরহাট অভিমুখী 'জনযাত্রা' নামে লংমার্চ রবিবার দুপুরে বাগেরহাটে পৌঁছায়|

 

বাগেরহাট শহরের দাসপাড়া মোড়ে মোটর শোভাযাত্রা থামার পর ব্যানার ও খণ্ড খণ্ড প্রতিবাদী মিছিল শহরে প্রবেশ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে সমাবেশে মিলিত হয়। এখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সুন্দরবনের কাছে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবিকা হারাবে। এটির প্রভাবে উপকূলের ৪ কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদ ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে। চার কোটি মানুষের বিনিময়ে ১৩শ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ হতে পারে না।

 

তিনি বলেন, সুন্দরবন বিনাশী এই কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে জনযাত্রার এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।  সুন্দরবন বিনাশী প্রকল্প যতদিন বাতিল না হবে ততদিন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সরকার সুন্দরবন বিনাশী এ প্রকল্প থেকে সরে না আসলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

 
বাগেরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয়  কমিটির নেতারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে কাটাখালীর উদ্যেশে রওনা দেন। পরে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি বাগেরেহাটের আহ্বায়ক রণজিৎ চট্রোপধায়ের সভাপতিত্বে সুন্দরবনমুখী জনযাত্রার সমাপনী সমাবেশে বাগেরহাটের কাটাখালি মোড়ে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জমান রতন, ইউসিএলবির সাধারণ সম্পাদক মোর্শারফ হোসেন নান্নু, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক।
         
জনসভায় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা এবং ছাত্র-শিক্ষক ও পরিবেশবিদরা অংশ নেন। জনসভার শুরুতে সুন্দরবন রক্ষার আকুতি জানিয়ে সংগীত পরিবেশ করেন শিল্পীরা।