আগামী ১৫ মে’র মধ্যে সুন্দরবনের নিকটবর্তী এলাকায় নির্মিতব্য রামপাল ও ওরিয়নের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। একইসঙ্গে এ প্রকল্প বাতিলের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা বা বিতর্কে আসার জন্য তারা সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে।
রবিবার সুন্দরবন জনযাত্রাশেষে বাগেরহাটের কাটাখালিতে সমাপনী সমাবেশে জাতীয় কমিটি এ দাবি ও আহ্বানে জানায়।
সমাবেশে ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ‘সুন্দরবন ঘোষণা’ পাঠ ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
ঘোষণায় বলা হয়, সরকার যদি ১৫ মে’র মধ্যে বাংলাদেশের জন্য মহাবিপর্যয়ের প্রকল্প বাতিল করতে ব্যর্থ হয় তাহলে দেশের সকল পর্যায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকামুখি লংমার্চ, অবস্থান কর্মসূচি, ঘেরাও, হরতাল, অবরোধসহ আন্দোলনের বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আনু মুহাম্মদ বলেন, সুন্দরবন শুধু লাখ লাখ মানুষের জীবন জীবিকার সংস্থান করেনা, সিডর-আইলার মতো প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় চারকোটি মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে। দেশের সীমানা এবং সীমানার বাইরে বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল কার্যত সুন্দরবনের অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। মুনাফালোভী আগ্রাসনে এখন প্রতিদিনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সুন্দরবন। রামপাল ও মাতারবাড়ীসহ উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে নেয়া বিভিন্ন অবিবেচক প্রকল্প জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। রূপপুরেও ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে অরক্ষিত করে সুন্দরবনের কাছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হচ্ছে। সুন্দরবনের কাছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ জীবিকা হারাবে। এর প্রভাবে উপকূলের ৪ কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদ ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে। চার কোটি মানুষের বিনিময়ে ১৩শ' মেগাওয়াট বিদ্যুৎ হতে পারে না। কোনোভাবেই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে অরক্ষিত হতে দিতে পারি না।