বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির

নৈতিক দায় এড়াতে পারেন না গভর্নর : লেনিন

 
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির নৈতিক দায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন। তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এই কথা বলেন তিনি। টাকা চুরি যাওয়া এবং তথ্য গোপন করে দায়িত্তহীন আচরণের জন্য অবিলম্বে আতিউর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদ থেকে অপসারণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 
ফেসবুকে তিনি লেখেন, পরম আশ্চর্যের বিষয় : (১) এত বড় একটা কেলেঙ্কারির বিষয় মাসাধিক আগে জানা সত্বেও আতিউর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অর্থমন্ত্রী ও ব্যাংকিং বিভাগের সচিবকে জানান নি কেন? সচিব স্বয়ং গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে ইতোমধ্য দুবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সভা হলেও সেখানে বিষয়টি না বলে গোপন করা হয়েছে । কার স্বার্থ রক্ষার জন্য? (২) এত বড় কেলেঙ্কারীর ঘটনা জানা সত্বেও আতিউর কিভাবে নির্লিপ্ত থেকে দিল্লি ভ্রমণ করতে পারেন? কেন ব্যাংক কতৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করলেন না?'
 
লেনিন ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো লেখেন, পুরো ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন করে দোষী ব্যাক্তিদের এবং সেই সঙ্গে ড. মুহম্মদ ইউনুসের চেলা আতিউরকে বিচারের সম্মুখীন করা উচিত। আতিউর ব্যাংকের স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে আতিউর দেশ বিদেশের বিভিন্ন পুরস্কার ও পদক সংগ্রহের জন্য গভর্নর পদের অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা বেসরকারি ব্যাংকের অর্থ ব্যয় করেছেন। তদন্ত করে এর সত্যতা প্রমাণিত হলে তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।'
 
ড. আতিউর রহমানের বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভের সমালোচনা করে লেনিন বলেন, 'কী এমন সৃজনশীল প্রবন্ধ রচনা করে বাংলা সাহিত্্যকে আতিউর সমৃদ্ধ করলেন যার জন্য এ বছর তাকে "সামগ্রিক প্রবন্ধের জন্য" বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেওয়া হলো? এর পেছনেও নাকি অবৈধ প্রভাব কাজ করেছে? ফলে লেখালেখি করেন এমন ক্ষমতাবান আমলারাও বাংলা একাডেমিকে তাদের একাধিক বই প্রকাশ/ অনুবাদ এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদানে বাধ্য করেন। অধস্তন কর্মকর্তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করে আতিউর ও বড় আমলা গংরা পুরস্কার/পদক এবং নাম কেনার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু করেছে অবিলম্বে তা বন্ধ না করলে জাতির কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।'
 
ফেসবুক পোস্টটির শেষভাবে লেনিন বলেন, 'কোনো দলীয় অবস্খান থেকে নয় একজন সচেতন ও দায়িত্ত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমি আমার অভিমত প্রকাশ করলাম। সংশ্লিষ্ট কারো সাথে আমার কোনো শত্রুতা বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব নেই। সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্র্থে আমি জেনে বুঝে আমার অভিমত প্রকাশ করছি।'