উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন সোহাগ মোল্লার ওপর হামলা চালিয়েছে নৌকা মার্কার প্রার্থী আব্দুল খালেক আজাদের সমর্থকরা। রিয়াজ মোল্লার সমর্থকরা পাল্টা হামলা চালিয়ে দুই জন নৌকার সমর্থককে আটক করে বেদম প্রহার করেন। গুরুতর অবস্থায় তাদের উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ সাতলা রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন সোহাগ মোল্লা অভিযোগ করেন, তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল নৌকার প্রার্থী খালেক আজাদ ও তার কর্মীরা। তারই ধারাবাহিকতায় রবিবার রাতে খালেক আজাদের সমর্থক দক্ষিণ সাতলা গ্রামের কবির সরদার ও মহসিন সরদারের নেতৃত্বে ৭/৮জন কর্মী তার ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা বিষয়টি মসজিদের মাইকে প্রচার করার পর গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ হামলাকারীদের ধাওয়া করে। এ সময় মহসিন ও কবিরকে আটক করে বেঁধে রাখে। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহসিন ও কবিরকে উদ্ধার করে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন। রিয়াজ মোল্লা নিজেও আহত হওয়ায় তাকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে রাতে নগরীতে নিয়ে আসা হয়।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খালেক আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বীর অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার দু’কর্মীকে রিয়াজ মোল্লার লোকজন ধরে নিয়ে মারধর করেছে। রিয়াজ মোল্লার ওপরে কোন হামলা হয়নি। সে কোন হাসপাতালেও ভর্তি নেই। এলাকায় গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। নৌকার কর্মীদের ধরে নিয়ে মারধরের ঘটনায় সোমবার দুপুরে চেয়ারম্যান রিয়াজ মোল্লাকে প্রধান আসামি করে ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ দিকে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাষানচরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর তিন কর্মীকে কুপিয়ে জখম করেছে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম চুন্নুর কর্মীরা। ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের মজিবুর রহমান মুজিবের সমর্থক কাজীরহাট ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি রকিব হোসেনসহ তিনজন হেসামদ্দি এলাকায় গনসংযোগে গেলে সেখানে নৌকার কর্মীরা তাদেরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। গুরুতর আহত রকিবকে বরিশাল শেবাচিম ও অপর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।