‘মন্ত্রী হচ্ছেন লুলা’

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা বর্তমান প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফের সরকারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পদ গ্রহণ করছেন বলে খবর বেরিয়েছে। ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্যরা বলছেন, লুলাকে মন্ত্রী পদে বসালে চাপের মধ্যে থাকা রৌসেফের প্রশাসন শক্তিশালী হবে। অপরদিকে মন্ত্রী হলে লুলাও কিছু আইনি সুরক্ষা পাবেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।  
 
সমুদ্রতীরবর্তী একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টকে কেন্দ্র করে অর্থ পাচারের তদন্তে থাকা সরকারি আইনজীবীরা গেল সপ্তাহে লুলাকে গ্রেপ্তার করার অনুরোধ জানান। তবে এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত আখ্যায়িত করে অবৈধ কোনো কিছু করার কথা অস্বীকার করেন জনপ্রিয় এই সাবেক প্রেসিডেন্ট। অজ্ঞাতসূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, মঙ্গলবার রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় রৌসেফ ও লুলার মধ্যে বৈঠক হবে। তবে এ বিষয়ে দাপ্তরিক কোনো মন্তব্য প্রতিবেদনগুলোতে ছিল না।
 
লুলা, রৌসেফকে নিজের উত্তরাধিকারী মনোনীত করে ২০১০ সালে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করেন। ২০১৮ সালে ফের ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও তিনি বাতিল করেননি। রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাসের দুর্নীতি কেলেঙ্কারি এবং কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে মন্দার মধ্যে পড়া অর্থনীতির জন্য চাপের মধ্যে আছেন প্রেসিডেন্ট রৌসেফ। তার পদত্যাগের দাবিতে ক্রমেই সোচ্চার হচ্ছে বিরোধীরা। গেল রোববার তার পদত্যাগ চেয়ে লাখো মানুষ ব্রাজিলের রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করে। কিন্তু পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
 
বাজেটে ঘাটতি আড়াল করেছেন, এমন অভিযোগ এনে রৌসেফকে ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি করতে চাইছেন কংগ্রেসে বিরোধী ও ক্ষমতাসীন জোটের অংশীদার দলগুলোর সদস্যরা। ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় মন্ত্রী হিসেবে লুলার অন্যতম প্রধান কাজ হবে, ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে ইমপিচমেন্টের প্রস্তুতি বন্ধ করা। এছাড়া মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তিতে প্রশাসনে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষকই রৌসেফের প্রশাসনকে ‘বিশৃঙ্খল’ বলে মনে করেন। বিবিসি।