কানহাইয়াসহ পাঁচ শিক্ষার্থীকে জেএনইউ থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ

গত মাসে এক অনুষ্ঠানে কথিত রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় ‘বিতর্কিত’ ভূমিকার জন্য কানহাইয়া কুমার, উমর খালিদ, অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও আরো দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) একটি শীর্ষস্থানীয় কমিটি।
 
 
সুপারিশগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম জগদেশ কুমার এবং প্রক্টর এ দিমরি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে মঙ্গলবার এনডিটিভি জানিয়েছে।  কথিত অভিযোগের বিষয়ে কানহাইয়া ও উমরসহ ২১ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছিল জেএনইউ কর্তৃপক্ষ।
 
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের এক তদন্ত কমিটির একটি প্রতিবেদন নিয়ে সোমবার উপাচার্যের নেতৃত্বে আলোচনায় বসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা। প্রতিবেদনে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।  ভারতীয় পার্লামেন্টে হামলার জন্য অভিযুক্ত কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী রাজনীতিবিদ আফজাল গুরুর ফাঁসির তিনবছরপূর্তিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে জেএনইউ এর ছাত্রনেতা কানহাইয়া, উমর ও অনির্বাণের বিরুদ্ধে ভারতবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
 
রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন কানহাইয়া। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পুলিশের কাছে আর্ত্মসমর্পণ করেন খালিদ ও অনির্বাণ। ৩ মার্চ কানহাইয়া জামিনে মুক্তি পেলেও খালিদ ও অনির্বাণ এখনও বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তদন্তের পর উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উপাচার্য ও প্রক্টরের দপ্তর থেকে দেওয়া হবে, পিটিআইকে জানিয়েছে সূত্রগুলো। 
 
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ১১ মার্চ কানহাইয়া ও অপর সাত শিক্ষার্থীর উপর থেকে একাডেমিক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না অভিযুক্তরা। তবে তাদের হোস্টেলে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এনডিটিভি।