ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম হত্যার বিচার শুরু

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যা মামলার ৫৬ জন আসামীর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
 
ফেনী জেলা ও দায়রা জজ দেওয়ান মো. সফিউল্লাহ গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের উপস্থিতিতে এ অভিযোগ গঠনের আদেশ প্রদান করেন। এ সময় ৪৪ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আরো ১২ আসামি পলাতক রয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
 
মামলার প্রধান আসামী বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিনার চৌধুরী অসুস্থ থাকায় তাকে ঢাকা ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে (বারডেম) থেকে এম্বুলেন্সে করে এনে ফেনী জেলা জজ কোর্টের নিচে এম্বুলেন্সে রাখা হয়। কিন্তু ফেনী জেলা ও দায়রা জজ দেওয়ান মো. সফিউল্লাহ চার্জ গঠনের জন্য তাকে কোর্টে নিয়ে আসতে নির্দেশ দেন। এ সময় মিনার চৌধুরীকে পুলিশ, ডাক্তার ও স্টাফরা ট্রেজারে করে আদালতে হাজির করে। তিনি আদালতে হাজির হয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
 
আদালত সুত্র জানায়, এর আগে গত ১১ জানুয়ারি, ১০ ফেব্রুয়ারি ও ২৯ ফেব্রুয়ারি মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ ধার্য থাকলেও সব আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়নি।
 
ফেনী জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলী (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ জানান, একরাম হত্যা মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ৫৬ জন আসামির সবার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। জামিনে থাকা ৪ জন এবং কারাগারে থাকা ৪০ জনসহ ৪৪ জন আসামি এ সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। ২২ জন আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের আবেদন খারিজ করে ৫৬ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ ছাড়া কয়েকজন আসামির পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করা হয়।
 
আদালত সূত্র জানায়, মঙ্গলবার মামলার ধার্য্য তারিখে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ফেনী কারাগারে থাকা ৩৩ জন, কুমিল্লা কারাগারে থাকা ৬ জন ও ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে (বারডেম) চিকিৎসাধীন ১ জনসহ মোট ৪০ জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আসামিদের আবারো কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া জামিনে থাকা ৪ জন আসামিও উপস্থিত ছিলেন।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, চেয়ারম্যান একরাম হত্যার ঘটনায় গত বছর ২৮ আগস্ট মোট ৫৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার ৪৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে কোন না কোনভাবে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার বাকি ১২ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
 
৫৬ আসামীর মধ্যে একমাত্র বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিনার চৌধুরী ছাড়া অন্য সব আসামি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
 
সরকার পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি হাফেজ আহম্মদ।
 
উল্লেখ্য, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরামকে ২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে, গুলি করে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান একরামুল হকের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিনার চৌধুরীসহ অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। একই বছরের ২৮ আগস্ট ফেনী মডেল থানা পুলিশ ৫৬ জনকে আসামি করে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করে। পুলিশ এ পর্যন্ত ৪২ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।