উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের জাহাজ এমভি হারবার-১ ভারতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার।
ওইদিন ভারতের কৃষ্ণাপটনাম বন্দরের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যাবে নিপা পরিবহন লিমিটিডের মালিকানাধীন কন্টেইনারবাহী জাহাজটি।
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল-১ এ নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
২২ মার্চ কৃষ্ণাপটনাম পৌঁছে তুলা ও টেক্সটাইল পণ্য নিয়ে ২৩ মার্চ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবে ১৭৬ টিইইউএস (টোয়েন্টি ফুট ইক্যুভেলেন্ট ইউনিট) ধারণক্ষমতার এমভি হারবার-১। ২৮ মার্চ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এবং ৩০ মার্চ পানগাঁও আইসিটিতে পৌঁছবে।
গত বছরের ৬ জুন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি (কোস্টাল শিপিং এগ্রিমেন্ট) হয়।
চুক্তি কার্যকর করতে ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর নয়া দিল্লিতে দুই দেশের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) স্বাক্ষরিত হয়।
এ চুক্তির আওতায় ভারতের পূর্বাঞ্চলের সাত উপকূলীয় বন্দর- কলকাতা, হলদিয়া, পেরাদ্বীপ, বিশাখাপটনাম, কাকিনাদা, কৃষ্ণাপটনাম ও চেন্নাই এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর, পানগাঁও আইসিটি, নারায়ণগঞ্জ, আশুগঞ্জ, পায়রা, খুলনা ও মংলায় জাহাজ চলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী মৈত্রী চুক্তি করেন। ৪০ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ, সমুদ্রসীমা বিরোধ ও ছিটমহল সমস্যার নিষ্পত্তি করেছেন।
উপকূলীয় জাহাজ চলাচলের এই যাত্রার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভুটান উপ-আঞ্চলিক জোটের ধারণা রূপ পেতে যাচ্ছে।
ফেনী নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ত্রিপুরার মধ্য দিয়ে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এবং বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভুটানে পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ভারতীয় দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাকেশ রমন বলেন, একাত্তর সাল থেকেই উন্নত যোগাযোগ ও সমঝোতার লক্ষে কাজ করছি। এতদিন যে চেষ্টা করছি আজ তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। এই পথে আরো বন্দর যোগ হবে। এই পথে শুধু সাতটি নয়, ক্রমে ৭০ এমনকি সাতশ জাহাজও দু্ই দেশের মধ্যে চলাচল করবে।
অনুষ্ঠানে নৌ-মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায়, ভারতের কৃষ্ণাপটনাম বন্দরের প্রতিনিধি রবি রাম প্রসাদ, চট্টগ্রাম বন্দরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও নিপা পরিবহন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী মো. সিরাজুর রহমান বক্তব্য দেন। নিপা পরিবহনের স্বত্বাধিকারী মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নুর-ই-আলম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।