আসছে নতুন ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ আহ্বান জানান।
শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার বিকেলে আলোচনায় অংশ নেনে ব্র্যাক, একশন এইড, আশা, মহিলা পরিষদ, পবা, বাপা, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন, সেভ দ্যা চিলড্রেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, অক্সফাম, উইমেন ফর উইমেন, আহসানিয়া মিশন, ওয়াল্ড ভিশন, বুড়িগঙ্গা বাচাও আন্দোলনসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ আরো বাড়ানো প্রয়েজন। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কর্মমূুখি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষাখাতে গবেষণার বরাদ্দ আরো বাড়ানো প্রয়োজন। সেইসঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজন পর্যাপ্ত বরাদ্দ। স্কুলগুলোতে শিক্ষার হার বাড়লেও ঝরে পরা রোধ এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার আহ্বন জানানো হয়। বাজেটে থোক বরাদ্দ কোন কাজে আসছে না এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা ঠিক যে থোক বরাদ্দগুলো কাজ করছে না, এটি করা হয়েছিলো এলাকার উন্নয়নের জন্য।
মহিলা সমিতির সভাপতি আয়েশা খানম তার বক্তব্যে জেন্ডার বাজেট আরো কার্যকর ভাবে প্রণয়নের আহ্বান জানান। আশার প্রতিনিধি হাওর ও পাহাড়ী অঞ্চলে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় স্কুল কার্যক্রম চালুর জন্য বরাদ্দ দেয়ার আহ্বান জানান। পবার প্রতিনিধি আবু নাসের খান বলেন, দেশে গড়ে ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, কিন্তু যদি এখানে পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি যুক্ত করা হয় তাহলে প্রবৃদ্ধি আরো কম হবে। তিনি বলেন, পরিকল্পনা কমিশন কোন কাজে আসছে না। প্রকল্প নয়, প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে কর্মপরিকল্পনার আলোকে বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানান তিনি।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ বলেন, দেশে যেসকল এন্টিবায়োটিকের কাঁচামাল উৎপাদন করা হয় সেগুলো আমদানি পর্যায়ে শুল্ক বাড়ানো যেতে পারে। গত বাজেটে দু’টির ক্ষেত্রে এ শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশে স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে সেটি প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও তার একটি অংশ অপচয় হচ্ছে। ওষুধের মূল্য এত বেড়ে গেছে যে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। ডাক্তারদের পেছনে এত টাকা খরচ হচ্ছে কিন্তু তারা গ্রামে থাকতে চাইছে না।