কুষ্টিয়ার মিরপুরে জাসদ-আওয়ামীলীগ সংঘর্ষ, আহত-৭

কুষ্টিয়া মিরপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ২দিনে ছাতিয়ান ও আমবাড়ীয়া ইউনিয়নে জাসদ ও আওয়ামীলীগ প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় ইউনিয়ন ছাড়াও উপজেলার বাকী ৯টি ইউনিয়নেও সাধারB ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গতকাল মঙ্লবার দুপুরে উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাসদ ও আওয়ামীলীগ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া বোমা বিষ্ফোরণসহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে উভয় পক্ষের ৭ জন গুরুতর আহত হয়। আহতরা কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরের দিকে জাসদ প্রার্থী আব্দুল জলিলের সমর্থক টিক্কা মিয়ার বাড়ীতে আওয়ামীলীগ প্রার্থী জসিমের সমর্থকরা হামলা চালায়। এ ঘটনার জের ধরে আজ দুপুর ১টার দিকে জাসদ প্রার্থী আব্দুল জলিলের সমর্থকরা হকিষ্টিক, হাসুয়া, লাঠি নিয়ে  ছাতিয়ান ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে সমর্থকদের বাড়ীতে পাল্টা হামলা করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি বোমা বিষ্ফোরণ ঘটায় হামলাকারীরা।
উভয় পক্ষের সংঘর্ষে আওয়ামীলীগ প্রার্থী সমর্থক চাঁদ ডাক্তার ( ৫৫) লাল্টু (৪৫) মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং জাসদ প্রার্থী সমর্থক কামরুল (৪৫) ফরিদ (৪০) সহ ৭ জন আহত হয়। পরে আহতদের মিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে তারা চিকিৎসাধীন।
খবর পেয়ে মিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছুলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ছাতিয়ান ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অন্যদিকে সোমবার রাতে উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের হালসা বাজারে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল বারী টুটুলের সমর্থকরা। হামলায় ১০টি  মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে পুলিশের ২ সদস্য ছাড়াও এক প্রতিবন্ধী আহত হয়েছে। এ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১ম দফায় ইউপি নির্বাচন আগামী ২২ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
পুলিশ ও কয়েকজন বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের হালসা বাজারে জাসদের নির্বাচনী ক্যাম্পে কয়েকজন কর্মী সমর্থক বসে ছিলেন। হঠাৎ করে আওয়ামী লীগের একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি জাসদ অফিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জাসদের নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায়।
এ সময় বেশ কয়েকজন যুবক ক্যাম্পের সামনে থাকা মোটটর সাইকেল ভাংচুর করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কিছু বুঝে ওঠার আগে তারা ভাংচুর চালাতে থাকে। এ পর্যায়ে পুলিশ বাধা দিলে ইটের আঘাতে হালসা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্য আব্দুল মালেক ও আব্দুল মমিন আহত হন।
এ সময় প্রাণভয়ে জাসদের কর্মী-সমর্থকরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। হামলার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জাসদ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মশিউর রহমান মিলন বলেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল বারী টুটুলের প্রত্যক্ষ মদদে এ হামলা হয়েছে। আমার কর্মীরা মাঠে নামতে ভয় পাচ্ছে। টুটুলের লেলিয়ে দেয়া ক্যাডার বাহিনী ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
জাসদের কর্মীরা জানান, টুটুলের ক্যাডাররা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাসদের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা করে। পুলিশ তাদের বাঁধা দিতে এগিয়ে এলে পুলিশের ওপরও হামলা করে তারা। ভয়ে আমাদের লোকজন পালিয়ে যায়। তারা জানান, বহিরাগত সন্ত্রাসীরা টুটুলের পক্ষে প্রচারনায় অংশ নিচ্ছে। এছাড়া জনপ্রতিনিধিরাও আচরণ বিধি লংঘণ করে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। এবং এসব দেখেও রিটার্নিং অফিসার নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
হালসা ক্যাম্পের সহকারী উপ-পরিদর্শক রবিউল হক বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। ৮ থেকে ১০টি মোটর সাইকেল ভাংচুর হয়েছে। হামলায় পুলিশের ২ সদস্য আহত হয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল বারী টুটুল বলেন, জাসদের কর্মীরা আমার অফিসের সামনে এসে অশালীন শ্লোগান দিতে থাকে। বিষয়টি সঙ্গ সঙ্গে প্রশাসনকে জানানো হয়। হামলা ও ভাংচুরের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাদ জাহান বলেন, আওয়ামীলীগ-জাসদের সমর্থকদের মধ্যে ‘ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। ভাংচুরও হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, কোন হানাহানি সহ্য করা হবে না। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।