গেইল ঝড়ে উড়ে গেল ইংল্যান্ড

ব্যাটসম্যানদের নৈপুণ্যে বড় সংগ্রহই গড়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু গেইল তাণ্ডবে ১৮৩ রানের লক্ষ্যটাও মামুলি মনে হলো। বিধ্বংসী এই ব্যাটসম্যানের শতকে সুপার টেনে ৬ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
 
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত এই শুরুর পথে দারুণ দুটি কীর্তিও গড়েছেন গেইল। ইংল্যান্ডের দেওয়া ৬ উইকেটে ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জে অনায়াসে জিততে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে দ্বিতীয় শতক তুলে নেন তিনি। তারপর দুই হাত সামনে নিয়ে উদযাপনটা যেন করলেন সঙ্গীতের তালে তালে। ৪৭ বলে শতক করার পথে নিউ জিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে হটিয়ে এই সংস্করণের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ডও নিজের করে নেন গেইল।
 
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি দ্রুততম শতকও। এর আগের দ্রুততম শতকটা ছিল গেইলেরই অধিকারে। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরের প্রথম ম্যাচেই জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনন্য ইনিংসটি খেলেছিলেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতেই এটি প্রথম শতক।
 
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বুধবারের এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। ডেভিড উইলির করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে মইন আলির হাতে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন জনসন চার্লস। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ক্রিস গেইল ও মারলন স্যামুয়েলসের ব্যাটে সে ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে দলটি। আদিল রশিদের বলে স্যামুয়েলস (২৭ বলে ৩৭) ক্যাচ আউট হলে ভাঙে ৬.২ ওভার স্থায়ী ৫৫ রানের জুটিটি।
 
স্যামুয়েলসের আউট পর্যন্ত ১২ বলে ১৫ রান করা গেইল নিজেকে অনেকটা গুটিয়েই রেখেছিলেন, স্ট্রাইকও পাননি বেশি। তারপরই স্বরূপে ফিরতে শুরু করেন মারমুখী এই ব্যাটসম্যান। চারের চেয়ে ছক্কা বেশি মেরে বড় লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে ফেলেন। ১১ বল হাতে রেখে দলকে অসাধারণ এক জয় এনে দেওয়ার পথে ৫টি চার ও ১১টি ছক্কা মারেন গেইল।
 
টি-টোয়েন্টির এক ইনিংসে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার মার। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৪টি ছক্কা মারার রেকর্ড অ্যারন ফিঞ্চের দখলে, ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটসম্যান। এর আগে ইংল্যান্ডকে ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন জেসন রয় (১৫) ও অ্যালেক্স হেলস। ৪.৩ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে তারা ৩৭ রান করেন। দ্বিতীয় উইকেটে হেলসের (২৮) সঙ্গে ৫৫ রানের জুটি গড়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়েন জো রুট। সুলিমান বেনের বলে হেলস বোল্ড হলে ভাঙে ৬.৪ ওভার স্থায়ী জুটিটি।
 
ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন রুট। আন্দ্রে রাসেলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৩৬ বলের ইনিংসে ৩টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান। এরপর ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন ছন্দে থাকা জস বাটলার ও ওয়েন মর্গ্যান। তাদের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে ইংল্যান্ড। ২০ বলে ৩০ রানের ইনিংসে ৩টি ছক্কা মারেন বাটলার। আর অধিনায়ক মর্গ্যান ১৪ বলের ঝড়ো ইনিংসে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় অপরাজিত ২৭ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে রাসেল ও ডোয়াইন ব্রাভো ২টি করে উইকেট নেন। ক্রিকইনফো।