‘তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ’ তানভীর জোহা রহস্যজনক নিখোঁজ

 
তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা রহস্যজনক নিখোঁজ রয়েছেন। গত বুধবার রাত ১২টার পর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। কোন সংস্থাও তাকে ধরে নিয়ে গেছে বলে স্বীকার করেনি। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘জোহা গ্রেফতার হতে পারেন। তবে আমি নিশ্চিত কিছু জানি না।’
 
জোহার স্ত্রী ডা. কামরুন নাহার সাংবাদিকদের কাছে স্বামীর সন্ধানের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘জোহা সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে দেশের জন্য কাজ করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার কাছে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে যখনই কোনো সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে, তখনই সে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে।’ জোহা যাতে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেন, সেজন্য তিনি প্রশাসনের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
 
ডা. কামরুন নাহার জানান, বুধবার রাত ১২টার দিকে জোহার সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার সর্বশেষ কথা হয়। জোহা তাকে জানিয়েছিলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরছেন। ক্যান্টনমেন্টের পার্শ্ববর্তী কচুক্ষেত এলাকায় তাদের অবস্থানের কথাও সে জানায়। জোহার সঙ্গে থাকা বন্ধুর নাম ইয়ামির আহমেদ। রাত দেড়টার দিকে ওই বন্ধু তাদের ফোনে জানান, জোহা অপহূত হয়েছেন।
 
এরপরই তারা কলাবাগান থানায় যান জোহার অপহূত হওয়ার বিষয়টি অবহিত করে সাধারণ ডায়েরি করতে। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, যেহেতু তিনি সর্বশেষ কচুক্ষেত এলাকা থেকে কথা বলেছেন, এজন্য কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে জোহার চাচা মাহবুবুল আলম সাধারণ ডায়েরি করতে কাফরুল থানায় যান। কাফরুল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাদের জানান, এটি ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় পড়েছে। সেখান থেকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঘটনাস্থল ভাষানটেক থানায় পড়েছে। পরে ওই থানায়ও যোগাযোগ করেন মাহবুবুল আলম। সেখান থেকেও বলা হয় ঘটনাস্থল তাদের এলাকায় পড়েনি। তার প্রশ্ন, তাহলে ঘটনাস্থল কোথায় পড়েছে? হতাশ হয়ে বাসায় ফেরেন তিনি।
 
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘তদন্তের স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান জোহাকে গ্রেফতার করতে পারে, তবে আমি নিশ্চিত নই’। তানভীর জোহা নিখোঁজ প্রসঙ্গে গতকাল বিকালে রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। জিডি না নেয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।
 
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বিশেষজ্ঞ মতামত দেয়া জোহা সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞ ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের স্থগিত থাকা প্রকল্প সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের ডিরেক্টর (অপারেশন) বলে দাবি করেছেন। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনার পর আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, জোহা তাদের কেউ নয়।