চট্টগ্রামে প্রশাসনের নাকের ডগায় পাহাড় সাবাড়!

চট্টগ্রাম নগরীর প্রাণকেন্দ্র গোলপাহাড় মোড়ে উঁচু ঘেরা দিয়ে পাহাড় কেটে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে একটি চক্র। পরিবেশ অধিদপ্তরের তিন দফা নোটিস ও মামলার পরও থামছে না চক্রটি। প্রশাসনও এ ব্যাপারে রহস্যজনক কারণে নীরব। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধেও উঠেছে জড়িত থাকার অভিযোগ। বিরোধপূর্ণ ঐ জায়গায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ভবন নির্মাণেরও অনুমতি দিয়েছে।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিনের সহযোগিতায় তার বাসার সামনেই সোলায়মান খান মাসুম ও তার সহযোগীরা পাঁচলাইশ থানার গোলপাহাড় কেটে গত কিছুদিন ধরে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ করছে। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে তিন দফা নোটিস দিয়ে তাদের বিরত থাকতে বললেও তারা শোনেনি। এ ব্যাপারে পাহাড়টির মালিক সানম্যান গ্রুপ অব কোম্পানিজ এর পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, সিডিএসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ দেয়া হয়। সিটি মেয়র ইতিমধ্যে অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে বিষয়টি মীমাংসার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
 
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক ইত্তেফাককে জানান, পাহাড় কাটা বন্ধ করতে নিষেধ করার পরও চক্রটি শোনেনি। তাই গত ২ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত সোলায়মান খান মাসুম ও তার সহযোগী মো. জিয়া উদ্দিন কচি, হাবিবুল্লাহ খান নাহিদ, ঠিকাদার হাজী মো. সেলিম, শেখ মো. আবদুল মান্নান এবং মো. জাকারিয়াকে আসামি করে পরিবেশ আইনে মামলা করা হয়েছে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সানম্যান গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান গত ৩৫ বছর ধরে গোলপাহাড়স্থ পশ্চিম, দক্ষিণ ও উত্তরাংশের বেশকিছু ভূমি ও পাহাড় কিনে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি পাহাড়ের দক্ষিণ পাশে মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে সোলায়মান খান মাসুম অন্য লোকের কাছ থেকে কিছু জমি কিনেন। তার জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করতে গিয়ে সোলায়মান সানম্যান গ্রুপের জায়গা ও পাহাড় জোর করে দখলে নেন।
 
সানম্যান গ্রুপ অব কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে জানান, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এর প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের ৫ম সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষকে বিরোধপূর্ণ ঐ জায়গায় না যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে চক্রটি পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ অব্যাহত রাখলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে।
 
বিরোধপূর্ণ ঐ জায়গায় ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার-১ প্রকৌশলী মো. ইলিয়াছ ইত্তেফাককে বলেন, ‘উনাদের মধ্যে হয়তো বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু জায়গাটি বিরোধপূর্ণ কিনা সেটা দেখার দায়িত্ব তো আমাদের নয়। আমাদের কাছে যেসব কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো দেখেই ঐ জায়গায় ছয়তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়া হয়েছে।’
 
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সোলায়মান খান মাসুম দাবি করেন ঐ জায়গাটি তার। সানম্যান গ্রুপ ঐ জমির যে মালিকানা দাবি করছে তা ভিত্তিহীন। পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। অন্যদিকে স্থানীয় কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিনের মোবাইলে ফোন করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ভবনটির ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ইমপালস প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান মো. সেলিম উল্লাহও ফোন রিসিভ করেননি।