রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনার অন্তত দুই সপ্তাহ আগে হ্যাকাররা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমে গোপনে প্রবেশ করেছে। একটি অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে ব্লুমবার্গ।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফায়ারআই ও ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিক্স বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে শনিবার ব্লমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সাইবার অপরাধীরা কীভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমে ঢুকে ব্যাংককে ঘায়েল করেছে তা প্রতিবেদনে বর্ণনা করা হয়েছে।
সাইবার প্রকিষ্ঠানগুলো বলছে, পেমেন্টগুলোকে প্রকৃত বলে মনে হয় সেজন্য হ্যাকাররা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভারে ম্যালওয়্যার বসিয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হ্যাকার গ্রুপটি বেশ অত্যাধুনিক। তাদের এই কাজ যাতে ধরা না পড়ে সেজন্য সিস্টেম থেকে চলে যাওয়ার সময় তারা নিজেদের চিহ্ন ঢেকে ফেলতে কম্পিউটার লগ মুছে ফেলে। অর্থ সরানোর আগে হ্যাকাররা নেটওয়ার্কে একটি সফটওয়্যার ঢোকায়, যাতে পুনঃপ্রবেশ করতে পারে তারা।
পূর্বের বিভিন্ন হ্যাকিং থেকে ধারণা করা হয়েছিল, এই হ্যাকিং দেশ ভিত্তিক ছোট ছোট হ্যাকার গোষ্ঠিরা করেছে। কিন্তু 'ফায়ারআই' সংস্থার ভাষ্যমতে এই হ্যাকিংয়ের সাথে জড়িত ছিল সংঘবদ্ধ একটি চক্র। তারা বলেন, 'তারা মূলত অর্থ লাভের জন্যই এ ধরণের হ্যাকিং করতে একত্রিত হয়েছিল।
এই অর্থচুরি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে অর্থ ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় পাচার হয়েছে তা ১০০ কোটি অর্থ পাচারের একটি বড় অপচেষ্টা ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এজন্য সিস্টেমের দুর্বলতাকেই দায়ী করেছে প্রতিষ্ঠান দুইটি।