আফগানিস্তানে অপহৃত ব্র্যাকের দুই কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও হাজি শওকত আলীর স্বজনদের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। অপহরণের খবর শোনার পর থেকে কান্না থামছেনা স্বজনদের মধ্যে।
অপহৃত সিরাজুল ইসলাম পাবনা সদর উপজেলার দুবলিয়া গ্রামের এজেম উদ্দিন খানের ছেলে এবং অপরজন হাজি শওকত আলী পাবনার ফরিদপুর উপজেলার হাঙরাগাড়ি গ্রামের মৃত মোস্তাক হোসেনের ছেলে।
সিরাজুল ইসলাম ২ ভাই, ৩ বোনের মধ্যে তৃতীয়। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকে চাকরি করেন গত ১০ বছর ধরে। আফগানিস্তানে আছেন ২০১২ সাল থেকে। সর্বশেষ ছুটিতে বাড়ি এসে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ফিরে যান কর্মস্থল আফগানিস্তানে। দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেন।
অপরদিকে হাজি শওকতের বাড়ি জেলার ফরিদপুর উপজেলার হাঙরাগাড়ি গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত মোস্তাক হোসেন। শওকতের মা ও স্ত্রী সন্তান থাকেন রাজধানীর উত্তরায়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে আফগানিস্তানে অস্ত্রের মুখে ব্র্যাকের দুই কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও প্রকৌশলী হাজি শওকতকে অপহরণ করে বন্দুকধারীরা। বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তান থেকে ফোনে শহিদুল ইসলাম নামে ব্র্যাকের এক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের পরিবারকে অপহরণের ঘটনাটি জানান। এরপর থেকে সিরাজুল ইসলামের পরিবারে নেমে আসে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। স্বামীর চিন্তায় কান্না থামছে না লতা খাতুনের।
সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী লতা খাতুন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আফগানিস্তান থেকে শহিদুল ইসলাম আমাকে ফোন করে জানান আমার স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে। আমি স্বামীকে সুস্থ শরীরে ফিরে পেতে চাই।
সিরাজুল ইসলামের বৃদ্ধা মা শাহনাজ পারভীন বলেন, ছেলেকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। সেগুলো পূরণ হয়নি। তার বাবা এজেম উদ্দিন খান বলেন, ঘটনা জানার পর থেকে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। ছেলে অপহরণের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কে আছি।
অপরদিকে হাজি শওকত আলীর ভায়রা আবু বকর সিদ্দিক জানান, অপহরণের ঘটনা আমরা শুনেছি। শওকত আলীর মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে ঢাকার উত্তরায় বসবাস করে। ফরিদপুরে কেউ থাকে না।