রায়পুরায় শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সংঘর্ষে শিক্ষার্থীসহ আহত ১০

রায়পুরা উপজেলার আব্দুল্লাহপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান হাজি আ. মোমেনের সমর্থক এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন খন্দকারের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোমেন বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে লাইসেন্সধারী শটগান দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়লে শ্রেণি কক্ষ থেকে তাড়াহুড়া করে বের হতে গিয়ে ৭-৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ও সুন্দর আলী গুরুতর আহত হন।
 
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি, ইউপি চেয়ারম্যান হাজি আ. মোমেন সঙ্গে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন খন্দকারের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে সভাপতি হাজী আ. মোমেনের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে দুই মাসের বেতন বাবদ প্রায় তিন লাখ টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন খন্দারের বিরুদ্ধে। স্বাক্ষর জালের প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয় চত্তরে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজন। মানববন্ধনের খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ তার লোকজনের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের জন্য চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন বিদ্যালয়ের দিকে এগিয়ে আসলে বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের লোকজন বাধা প্রদান করে।একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় চেয়ারম্যান সমর্থক সুন্দর আলী গুরুতর আহত হন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সমর্থক ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিনও আহত হন। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান সমর্থকরা বিদ্যালয় চত্তরে পৌঁছে হামলা চালালে চেয়ারম্যান হাজী মোমেন নিজেকে রক্ষা করতে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তা ছাড়া সম্প্রতি ঘোষণা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি যেহেতু মন্ত্রণালয় দেখবেন, সেহেতু এখানে আমাদের কিছু করার থাকেনা।
 
খবর পেয়ে নরসিংদী ও রায়পুরা থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।