ছয় বিশিষ্টজনকে সম্মাননা বাংলাদেশ লেখিকা সংঘের

ছয় বিশিষ্টজনকে সম্মাননা জানিয়েছে বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ। শনিবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে এই সম্মাননা দেয়া হয়। সংগঠনের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক প্রদান ও গুণীজন সংবর্ধনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
 
বাংলাদেশ লেখিকা সংঘের সভাপতি দিলারা মেসবাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ। অনুষ্ঠানে কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের প্রধান পৃষ্টপোষক সেলিনা খালেক। 
 
এবার কবি তাইবুন নাহার রশীদ স্বর্ণপদক পেয়েছেন জুবাইদা গুলশান আরা, সাহিত্য পদক পেয়েছেন ড. নিয়াজ জামান ও ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সাহিত্য সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে সুলতানা রিজিয়াকে। এছাড়া বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে আরমা দত্ত ও শিরিন বানু মিতিলকে। 
 
অনুষ্ঠানে আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, নারীদেরকে পিছনে রেখে একটি দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। নারী-পুরুষ সমানতালে এগিয়ে গেলে দেশও এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশে নারী সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। 
     
তাসমিমা হোসেন বলেন, ঘর-সংসার, স্বামী-সন্তানের দেখভাল করার পরেও নারী তাদের সৃজনশীল প্রকাশ ঘটায়। নারীর মনে অনেক কথা থাকে। নারীদের মতো করে তাদের কথা বলতে হবে। ‘বেগম’ থেকে উৎসাহ নিয়ে আমি ‘অনন্যা’ বের করেছি। সমাজে নারীর বিভিন্ন অবদান আমরা তুলে ধরি। 
 
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব স্তরে নারীদের তুলে আনছেন। ধন্যবাদ অবশ্যই তিনি প্রাপ্য। সব মানুষ কাজের স্বীকৃতি চায়। এটা অবশ্যই দিতে হবে। এছাড়া ছেলেমেয়েদের সমানতালে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
    
ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিলেবাসে প্রতিটি বিষয়ে ৪টি করে রেফারেন্স বই থাকে। আমরা চেষ্টা করি অন্তত একটি নারী লেখকের বই রাখতে। তবে সব বিষয়ে নারী লেখকদের বই পাওয়া যায় না।
  
হাসান আজিজুল হক বলেন, আমার কাছের এবং প্রিয় মানুষরা সম্মাননা পেয়েছেন। বিষয়টি ভাবতেই ভালো লাগছে। এই সময়ে আমরা গ্রামেগঞ্জে দলে দলে ছাত্রীদের স্কুলে যেতে দেখি। ছাত্রদের খুব একটা দেখা যায় না। এটা অবশ্যই একটা বড় পরিবর্তন।
 
তিনি বলেন, লেখকরা কখনো কারো কাছে মাথা নতো করে না। যে মাথা নতো করে সে কবি নন, লেখক নন কিংবা শিল্পী নন। আমি বৃদ্ধ মানুষ। অনেক কথা বলেছি। এসব কথার ৯০ ভাগ ফেলে দিতে পারেন। তবে বাকি ১০ ভাগ খাঁটি সোনা ভেবে রেখে দিতে পারেন।
    
ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, আমি জীবন থেকে নিয়েই গল্প লেখি। একটি নির্যাতনের গল্পের মধ্যেও উদ্দীপনা থাকে। আমি সবসময় আমার চোখকান খোলা রেখে চলি। ছাত্রছাত্রীদের কাছে, নানা মানুষের গল্প শুনি। এসব থেকেই আমি লেখি। এই সম্মাননা আমাকে নতুন করে কাজ করতে উৎসাহ দিবে বলে মনে করি।