বিএনপির কমিটি কবে হবে কেউ জানে না

 
দীর্ঘদিন অস্বস্তিকর রাজনৈতিক পরিবেশে থাকা ‘ক্লান্ত’ বিএনপি কাউন্সিলে কিছুটা ’নিশ্বাস’ নেয়ার সুযোগ পেয়েছে শনিবার। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর প্রায় ছত্রভঙ্গ দলীয় নেতাকর্মীদের মিলনমেলা বসেছিলো কাউন্সিল প্রাঙ্গন ঘিরে। বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘এই কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপি কঠিন অবস্থার মধ্যে নতুন ভাবে জেগে উঠেছে। এখন আসবে নতুন নেতৃত্ব।’ কাউন্সিল শেষ হওয়ার পর এখন নতুন কমিটি প্রণয়নের কাজ শুরু করেছেন দলের হাইকমান্ড। তবে কতদিন লাগবে এই কমিটি ঘোষণা করতে তা একমাত্র তিনিই জানেন।
 
শনিবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সারাদেশ থেকে আগত প্রায় তিন হাজার কাউন্সিলর বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির পদগুলোতে নির্বাচনের একক ক্ষমতা ও সর্বময় কর্তৃত্ব চেয়ারপারসনের ওপর অর্পন করেন। কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচনের রেওয়াজ থাকলেও তা করা হয়নি। মহাসচিবের নাম প্রস্তাবও কেউ করেননি। মহাসচিব মনোনয়নের ক্ষমতাও হাইকমান্ডকে দিয়েছেন কাউন্সিলররা। তবে কোন কোন কাউন্সিলর তাদের বক্তব্যে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করার অনুরোধ জানান বেগম জিয়ার কাছে।
 
কাউন্সিলরদের দেয়া বক্তব্যের জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, যথাসময়ে কমিটি হবে। দলের মধ্যে কিছু বেঈমান ঢুকেছে। ১/১১ সময়ে কিছু মীর জাফর ঢুকেছে। এরাই আন্দোলন নষ্ট করে দেয়। এজন্যই আন্দোলন সফল হয় না। ঢাকার বাইরে আন্দোলন ঠিকই হয়েছে, ঢাকায় আন্দোলন হয় নাই। খালেদা জিয়া বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে লেনদেন হবে না। আমরা সবাইকে চিনি। ত্যাগী, যোগ্য ও সাহসী লোকদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হবে।
 
দলের হাইকমান্ডের ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে। কারণ এবারের কমিটি হবে অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে। বিগত আন্দোলনে অনেক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে হাইকমান্ডের কাছে। তিনি নিজেও আন্দোলনের সময় নেতাদের ফোন করে পাননি। অনেক নেতার দ্বিমুখী চরিত্র বিশেষ করে প্রকাশ্যে একরকম আবার পর্দার অন্তরালে অন্যরকম-এটা তার সামনে উন্মোচিত।
 
এদিকে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ৭ বছর কমিটি না হওয়ায় বিএনপিতে প্রবেশের জন্য সাবেক ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের বহু নেতা পদহীন অবস্থায় আছেন। সারাদেশের ত্যাগী এবং সাহসী নেতারা আছেন, যারা বিগত আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন জেলায় জেলায়। তাদেরকে এবার বঞ্ছিত করবে না বিএনপি। ফলে কমিটির আকার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। বড় কমিটি করতে গেলে স্বাভাবিকভাইে সময় একটু বেশী লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন দলের একজন নেতা।
 
গঠনতন্ত্রে ৩০ সংশোধনী: শনিবার কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে গঠনতন্ত্র সংশোধনী অনুযায়ী সদ্য নির্বাচিত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেখানেই থাকুক না কেন, সেখান থেকেই প্রয়োজন মতো দল পরিচালনা করতে পারবেন। বলা হয়েছে, যদি দলের চেয়ারপারসন দলের কোন সভায় বা কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিত থাকেন, তা হলে তারেক রহমানই অর্থাত্ সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানই যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পাবেন। ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে এরকম প্রায় ৩০টি সংশোধনী অনুমোদন করেছেন কাউন্সিলররা। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতেই তারা এসব সংশোধনে অনুমতি দেন। ফলে পরবর্তী কাউন্সেলের আগ পর্যন্ত সংশোধিত এ গঠনতন্ত্র দিয়েই চলবে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম।
 
সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো নেতা এক পদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় কোনো নেতা কোনো অঙ্গদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক একইসঙ্গে জেলা বা মহানগর কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে থাকতে পারবেন না। তবে চেয়ারপারসন বিশেষ বিবেচনায় কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম অনুমোদন করতে পারবেন। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্টকরণের মাধ্যমে বলা হয়েছে- চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে তিনি তার সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে চেয়ারম্যান হবেন এবং নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ওই পদে বহাল থাকবেন। নতুন এ গঠনতন্ত্রে চেয়ারপারসনের পাশাপাশি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠানের বিধি যুক্ত করা হয়েছে। চেয়ারপারসনের ক্ষমতা বাড়িয়ে বলা হয়েছে, তিনি স্থায়ী কমিটি ভেঙে দিতে এবং পুনর্গঠন করতে পারবেন।