গত ২০ মার্চ বিকেল ৪টায় দীর্ঘদিন দূরারোগ্য ক্যান্সারের সাথে জীবনের লড়াই শেষে চিত্রনায়িকা পারভীন সুলতানা দিতি মৃত্যুবরণ করেন ( ইন্না .. রাজেউন )। তাই সেই বিকেল থেকেই হাসপাতালে প্রিয় সহকর্মীকে শেষ বারের মতো দেখার জন্য ছুটে আসেন।
প্রথমে পরিবারের অসম্মতি ছিল এফডিসিতে দিতিকে আনার ব্যাপারে। তবে এর কারণ জানা যায়নি। অতঃপর পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, ওমরসানীসহ একাধিক শিল্পীরা দিতির পরিবারের সাথে আলাপ করে শিল্পীকে তার বিগত জীবনের কর্মস্থল এফডিসিতে নিয়ে আসা হয়।
IMG0
গত ২১ মার্চ সকাল সোয়া ১০টায় বিএফডিসিতে ছিল দিতির দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। দিতিকে শেষবারের মতো দেখতে এদিন এফডিসিতে ভিড় জমিয়েছিলেন তার দীর্ঘদিনের সহ-কর্মীরা। প্রডাকশন বয়, সহাকারি পরিচালক, ক্যামেরাম্যানরাও দিতির অকাল প্রয়াণে মর্মবেদনা প্রকাশ করেন।
এফডিসিতে এই গুণী শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তিনি দিতির ভূয়সী প্রশংসা করার এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। শুধু আসাদুজ্জামান নূর নন, কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন আরও অনেকে। তাঁদের কান্নায় ছলছল করে ওঠে আরও অনেকের চোখ।
দিতির মেয়ে লামিয়া কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘চলচ্চিত্রে আমার মায়ের অবদানকে নিশ্চয় তাঁর ভক্তরা মনে রাখবেন। তার প্রতি কারো কোনো বিরাগ থাকলে ক্ষমা কিরে দিবেন। আর আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।’
দিতির দীর্ঘদিনের সহ-কর্মী চম্পা বলেন, ‘দিতি ছিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল। তিনি এভাবে চলে যাবেন তা কল্পনাও করি নি। শেষ মুহূর্তেও তাঁর হাসিমুখ দেখে মনে হয় নি তিনি এভাবে চলে যাবেন।’
চিত্রনায়ক আলমগীর বলে, ‘তার সঙ্গে অনেক কাজ করেছি। আমার দেখা সবচেয়ে প্রাণবন্ত একজন মানুষ ছিলেন দিতি। তাঁকে নিয়ে আজ এই মুহূর্তে কথা বলা খুবই কঠিন। আমি শুধু আজ সবার কাছে অনুরোধ করব দিতির আত্মার শান্তি কামনা করবেন।’
IMG1
পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘দিতির মতো অভিনেত্রী আমার অভিনয় জীবনে কখনো দেখি নাই। তিনি সবদিক দিয়ে গুণান্বিত ছিলেন। তিনি টাইমলি আসতেন, সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন। আমি চাই সবাই যেন দিতির আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।’
এ ছাড়া ওমর সানী, পরিচালক এস এ হক অলিক, অভিনেতা মিজু আহমেদ, শিবা শানু, আলিশা প্রধান, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরুসহ আরও অনেকে দিতিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন।
অতঃপর দিতির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তিনি।
গত সোমবার দুপুর পৌনে ২টার পর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার দত্তরপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এরআগে দত্তরপাড়ার নিজ বাড়ির সামনে মসজিদের মাঠে তার শেষ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দিতির মামা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।
IMG2
জানাজায় দিতির ছেলে সাফায়েত হোসেন দীপ্ত চৌধুরী, তার বড় ভাই মনির হোসেন, পারভেজ হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও টিপু ও তার পরিবারের সদস্যরা এবং সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু নাসের ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার, সোনারগাঁও থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, সনমান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাবউদ্দিন সাবু, সোনারগাঁও নাগরিক কমিটির সভাপতি এটিএম কামালসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
IMG3
প্রিয় অভিনেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে তার সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধবসহ এলাকার শত অসংখ্য নারী-পুরুষ ভিড় জমান। এ সময় দিতির পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।