বিশ্ব পানি দিবসে মানববন্ধনে বক্তারা

পানির উৎস সংরক্ষণে কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের আহ্বান

বিশ্বে একশ ৫০ কোটি মানুষের জীবিকা সম্পূর্ণ পানির ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া সকল পেশাই পরোক্ষভাবে পানি নির্ভর। অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ন ও শিল্পকারখানা স্থাপন, পানিসম্পদের সঠিক ব্যবহারের অভাবে পানির উৎসগুলো নষ্ট হচ্ছে। ফলে জীব ও জীবিকার ওপর নেমে আসছে বিপর্যয়। জীব ও জীবিকার প্রয়োজনে পানির উৎসগুলো দূষণ ও দখলের হাত থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন। এ জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) আলোকে পানির উৎস সংরক্ষণে কর্মপরিকল্পণা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পানি অধিকার ও পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।IMG0
 
মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে আয়োজিত ‘জীব ও জীবিকার প্রয়োজনে পানির উৎসসমূহ সংরক্ষণ করা হোক’ শীর্ষক মানববন্ধনে বক্তরা এ অভিমত জানান। 
 
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, পানির সঙ্কটে শুধু জীব ও জনস্বাস্থ্য নয়, শিল্পায়ন ও হুমকির সম্মুখীন। পানি সম্পদের সঠিক ব্যবহারের অভাব এবং মানবসৃষ্ট কারণে পানির নিরাপদ উৎসগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানি দূষণ বৃদ্ধি এবং পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। পানিসম্পদের অপব্যবহার রোধে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।IMG1
 
বাংলাদেশ অ্যানভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্ক (বেন) অস্ট্রেলিয়ান চ্যাপ্টার এর সমন্বয়ক কামরুল আহসান খান বলেন, পানি ও নদীর সঙ্গে জীবন-জীবিকা, পরিবেশ, প্রতিবেশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি সবকিছু ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। 
 
তিনি বলেন, পাড়া-মহল্লার জনসাধারণকে পানি সম্পদ ব্যবহার ও সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করতে হবে। IMG2
 
নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ) এর সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না বলেন, অর্থনীতি গতিশীল রাখার ক্ষেত্রে নদীকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে নদীপারের মানুষের জীবন-জীবিকা বদলে যাচ্ছে। পানির উৎসগুলো দূষণ রোধ ও অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে।
 
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার, মারুফ হোসেন বলেন, পানি সম্পদের সুষ্ঠু ও যথাযথ ব্যবহারের অভাবে সুপেয় পানি সঙ্কট তীব্র হচ্ছে। শুধু আমাদের শিল্প কারখানাগুলো ২ শতাংশ পানি ব্যবহার করলেও শতকরা ৭০ভাগ পানি দূষণের জন্য তারা দায়ী। পানির উৎসগুলো দূষণ ও দখলের হাত থেকে রক্ষায় এসডিজি’র আলোকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি।
 
প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের মহাসচিব হেলাল আহমেদ বলেন, ভারতের অনেক অঞ্চলে এখন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কি. মি. দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। সেদিক থেকে আমরা কিছুটা ভালো পর্যায়ে থাকলেও বর্তমানে যেভাবে জলাধারগুলো দখল ও দূষণে আমরা মারাত্মক হুমকির মধ্যে আছি। পানি সম্পদ রক্ষায় সরকার ও জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। IMG3
 
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান লিটু, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ন কবীর সুমন, গ্রীন মাইন্ড সোসাইটি এর নির্বাহী পরিচালক আমির হোসেন, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভাসিটি’র গবেষণা সহকারী ফারজানা জামন লিজা, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব আলী, সুজন’র ক্যামেলিয়া চৌধুরী, পবা’র সদস্য মো. সেলিম, নাগরিক উদ্যোগের নাজিমুদ্দীন প্রমুখ। মানববন্ধন পরিচালনা করেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আতিক মোর্শেদ।