রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের বিরুদ্ধে মামলা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য নিউইয়র্কে একজন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এখন পর্যন্ত মামলা করা হয়নি। খবর রয়টার্সের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লোপাট করা অর্থ ফেরত আনার সুপারিশ করা হয়। তবে এর আগে এক বিবৃতিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ বলেছে, তাদের সিস্টেমে কোনো ত্রুটি ছিলনা এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ফেব্রুয়ারির শুরুতে ওই অর্থ স্থানান্তর করা হয়।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। ঘটনা জানার পরও বিষয়টি গোপন রেখে চুরি হওয়া অর্থ ফেরত আনতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ফিলিপাইনের ব্যাংকো সেন্ট্রালের গভর্নর আমান্ডো টেটাংকো জুনিয়রের কাছে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি লেখেন। এরপর গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের দৈনিক দি ফিলিপিন্স ডেইলি ইনকোয়ারারের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির খবর জানায়। এরপর বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যমেও এ খবর এলে তোলপাড় শুরু হয়।গত ৭ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা চুরির ঘটনা স্বীকারের পাশাপাশি দাবি করে, দেশের বাইরে থেকে হ্যাকাররা অর্থ চুরি করেছে।
পরদিন ৮ মার্চ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাক হওয়া অর্থ ফেরতে প্রয়োজনে মামলা করা হবে। অর্থ চুরির দায়ের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, 'বাংলাদেশ ব্যাংকের এখানে কোনো রকমের দোষ নেই। এটা ফেডারেল রিজার্ভের, যারা এটা সেখানে হ্যান্ডেল করেন, তাদের কোনো গোলমাল হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে লোপাটের অর্থ লেনদেনে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে ফিলিপাইনের রিজাল কর্মাশিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে বিপুল পরিমাণ এ অর্থ লোপাট নিয়ে দেশটির সিনেট কমিটি ও অ্যান্টি মানি লণ্ডারিং কাউন্সিলের তদন্তে সহায়তারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার ব্যাংকটির পক্ষে এক বিবৃতিতে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি তদন্তে সহায়তারও অঙ্গিকার করা হয়। অর্থ লোপাটের সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজোশের যে অভিযোগ উঠেছে তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানানো হয় ওই বিবৃতিতে। লোপাটের অর্থ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে গত মঙ্গলবার ব্যাংকের জুপিটার শাখার ম্যানেজার মাইয়া সান্তোষ দেগুইতো এবং সহকারী শাখা ম্যানেজার অ্যাঞ্জেলা তোরেজকে বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।