সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি : সুলতানা কামাল

মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, আমরা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি। নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীগুলোকে  যে প্রান্তিকতায়  ঠেলে দেয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য লজ্জার।
 
বুধবার সকালে মানবাধিকার সংগঠন কাপেং ফাউন্ডেশন আয়োজিত বাংলাদেশের আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০১৫’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সুলতানা কামাল।
 
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, কয়েক দিন পর আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করব। বড় বড় কথা বলব। কিন্তু সত্যিকারভাবে আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি সৎ থাকতে চাই, তবে মুক্তিযুদ্ধের মূল দর্শন সব মানুষের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম তারা দেশটাকে দখল করে বড়লোক হওয়ার জন্য করিনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল, প্রতিটি মানুষ মাথা উঁচু করে বাঁচবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল রাষ্ট্রের কোনো চরিত্র আরোপ করা যাবে না যা অনেককে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
 
সুলতানা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ যদি গণতান্ত্রিক হতে চায়, বহু ধর্মের মানুষের দেশ হতে চায়, তবে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম থাকতে পারে না। অষ্টম সংশোধনী নিয়ে শুনানির আগে  হেফাজতে ইসলাম বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। যদি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ও অসা¤প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে চায়, তবে হেফাজতের দাবির গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে না।
 
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান এখনো ধর্মীয় বৈষম্যমুক্ত হতে পারেনি। সংবিধানে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ জাতিগোষ্ঠীর এই বিভাজন টানা হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ সরেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী  ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। মানবাধিকার প্রতিবেদন তুলে ধরেন কাপেংয়ের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা।