পতাকা দিবসে বর্ণাঢ্য আয়োজন

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় পতাকা উত্সব। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজনের শুরুতেই ছিল শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। রং-তুলির আঁচড়ে শিশু-কিশোরদের কোমল হাতে বর্ণিল হয়ে উঠে লাল-সবুজের পতাকা। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা বলেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতেই এই আয়োজন।
 
১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি-বেসরকারি ভবনে উড়ানো হয় বাংলাদেশের পতাকা। সেই দিন স্মরণে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই আয়োজন। গতকাল শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার পর শিখা চিরন্তনে জাতীয় পতাকার ডিজাইনার শিব নারায়ণ দাশকে নিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এরপরই শুরু হয় পতাকাশোভিত বর্ণাঢ্য মিছিল; বাদ্যের তালে তালে এগিয়ে চলে রাজপথে। পরে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পতাকার ডিজাইনার শিব নায়ায়ণ দাশ। তিনি শোনান পতাকা তৈরির আদিকথা। বিভিন্ন স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে উত্সবের শুরুতেই শোভাযাত্রাসহকারে অংশ নেন বিশিষ্টজন।
 
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নষ্ট করতে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মন্ত্রী বানিয়েছিল। চেয়েছিলো ইতিহাস বিকৃত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাধাগ্রস্ত করতে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধ্বংস করতেই শিশু পার্ক বানিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। অন্যান্য আলোচকরা বলেন, ইতিহাস বিকৃতি ঠেকাতে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান অধ্যাপক মাহফুজা খানম। দেশের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি রক্ষায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের শপথ নেন শিক্ষার্থীরা।