২০১৫ সালে কমপক্ষে ৭৪ জন আদিবাসী যার মধ্যে নারী ও স্কুলের ছাত্রীকে পর্যন্ত ফৌজদারী অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে। কমপক্ষে ১১৭ জন আদিবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সমতলের ১৩ জন আদিবাসী (৩ জন আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশু হত্যাসহ) বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ১৯১ জনের অধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৫ সালে সারাদেশে ৮৫ জন আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশু শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৪ জন পার্বত্য চট্টগ্রামের এবং ৪১ জন সমতলের আদিবাসী নারী ও শিশু।
গতকাল ডেইলি স্টার ভবন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের আদিবাসীদের মানবাধিকার রিপোর্ট ২০১৫’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। মানবাধিকার রিপোর্টের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, আমরা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি। আদিবাসীদের যে প্রান্তিকতায় ঠেলে দেয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য লজ্জার।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, এদেশের বৈচিত্র্যতা রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্রকে তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত বলেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছর হতে চলেছে, এই সময়কে যদি পাকিস্তান শাসনামলের ২৫ বছরের সাথে তুলনা করি তাহলে দেখা যাবে সেই সময়ে সংখ্যালঘুদের যে অবস্থা আজকের স্বাধীন দেশে সংখ্যালঘুদের একই অবস্থা। বাংলাদেশের সংবিধান পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেও আমরা অসাম্প্রদায়িক হতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীতে আদিবাসীদের ক্ষুদ্র পরিচয়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়ে সরকার নিজেই দেশের জনগণের সাথে বৈষম্য করেছে। ক্ষুদ্র এবং বৃহত্ বলে জাতিগত বিভক্তি বাড়িয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরূপা দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যে দীর্ঘসূত্রতা তার কারণে অনেক রকম জটিলতা বাড়ছে।
কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন রবীন্দ্রনাথ সরেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন সংস্থা অক্সফামের প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর এমবি আক্তার, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাপেং ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারপার্সন চৈতালী ত্রিপুরা। অক্সফামের সহযোগিতায় কাপেং ফাউন্ডেশন আদিবাসীদের মানবাধিকার বিষয়ক বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করে। মানবাধিকার রিপোর্ট সম্পাদনা করেছেন প্রফেসর মংসানু চৌধুরী ও কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা।