মানিকগঞ্জে কয়েলের আগুনে নি:স্ব ১৮ পরিবার

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে মশার কয়েল থেকে আগুন লেগে নি:স্ব হয়ে গেছে এলাকার ১৮ পরিবার। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের আহুলিয়া গ্রামে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ঘিওর ফায়ার ষ্টেশন।

ঘিওর ফায়ার ষ্টেশনের ষ্টেশন অফিসার আব্দুল ছত্তার মোল্লা ইত্তেফাককে বলেন, 'রাত সোয়া ১ টার দিকে আমরা অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ২ টা থেকে ভোর সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত আমরা ও মানিকগঞ্জ ফায়ার ষ্টেশন চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হই। জাকির হোসেন নামে এক ব্যাক্তির বাড়ীর মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পওে বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে ১৮ টি টি বাড়ীতে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডে কৃষকদের আসবাবপত্র ও গচ্ছিত সড়িষা পুড়ে যায়। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা'।

বিষয়টি কলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন নিশ্চিত করে বলেন, 'শুক্রবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে আহুলিয়া গ্রামে বৈদ্যতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। এতে গ্রামের ১৮ টি পরিবারের ২৯ টি আধা পাকা ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় শতাধিক মানুষ নি:স্ব হয়ে গেছে'। এদিকে আগুনে পুড়ে যাওয়া সড়িষা বিক্রি করেই সারা বছর সংসার চালাতেন বলে ক্ষতিগ্রস্থরা জানান।

কলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, '১৮টি পরিবারের সকল আসবাবপত্র, নগদ টাকা পয়সা সহ অনেক  ক্ষতি হয়েছে। তবে কেউ আহত হয়নি। আমার পরিষদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই প্রত্যেক পরিবারের মধ্যে লুঙ্গি, কাপর, ৫০ কেজি করে চাল, ডাল ও সবজি বিতরণ করা হয়েছে'।

আরও পড়ুন:  মাটির দেয়াল চাপা পড়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

শনিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলিম ও কলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন বলেন, 'উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি করে কম্বল বিতরণ করেছি। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে তাদেরকে পুনরায় সাহায্য করা হবে'।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি