দশ ফুট চওড়া টিনশেড ঘর। দরজা-জানালা বেড়া কিছুই নেই। টিনের চালায় শত ছিদ্র। শ্রেণিকক্ষ ও বসার জায়গার সংকটও রয়েছে। আর তাই দুই কক্ষের আধাপাকা ভবনের অফিস কক্ষে চলছে পাঠদান। ওই ভবন অবকাঠামোগুলোরও জীর্ণদশা। এতে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয় বিমুখ হচ্ছে। গুরুদাসপুর উপজেলার কালাকান্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তায় ৩৩ শতাংশ জায়গা কিনে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই ৩৩ শতাংশ আয়তনের জমির সামনের ১০ শতাংশের ওপর স্কুলের দুটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পেছনের ২৩ শতাংশ জায়গা জুড়ে সড়কের মাটি কাটায় ওই জায়গা পুকুরে পরিণত হয়েছে। এতে খেলার মাঠ সংকুচিত হয়ে পড়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর্থিক সংকটের কারণে পুকুরটি ভড়াট করা যাচ্ছে না।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বেড়া না থাকায় পড়ায় মনযোগ থাকে না। বসার জায়গা নিয়ে প্রতিদিন প্রতিযোগিতা করতে হয়, বৃষ্টি হলেই টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার বিদ্যালয়ের ফলাফল শতভাগ। কিন্তু শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নেই। ভবনের জন্য ছয় বছর আগে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সংস্কারের জন্য কোনো বরাদ্দও মেলেনি। বিদ্যালয়টির এমন দৈন্যদশার কারণে অভিভাবকদেরও আগ্রহ নেই। এর কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফেরানো গেলে শিক্ষার্থী সংখ্যাও বাড়বে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বিদ্যালয়টির দৈন্যদশার কথা স্বীকার করে বলেন, ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হয়। এর আগেও নানা সমস্যা নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলেছে। বর্তমানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দিকে নজর দেয়া শুরু হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী বাড়ানোর জন্য শিক্ষক ও এসএমসি কমিটিকে আরো সচেতন হওয়া দরকার।