ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটাররা কেন্দ্রের আশে-পাশেও যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। তার দাবি, কেউ সাহস করে গেলে গুলি খেয়ে মৃত্যুবরণ করছে। দ্রুততম সময়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না করলে সরকারকে পেছনের দরজা দিয়ে পালাতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা: নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা’-শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরাম নামের একটি সংগঠন এ সভার আয়োজন করে।গত মঙ্গলবার সারা দেশে ৭১২টি ইউপিতে নির্বাচন হয়। অনিয়ম-ভোট জালিয়াতি-সহিংসতাপূর্ণ এ নির্বাচনে অন্তত ২০ জন নিহত ও সহস্রাধিক আহত হয়েছেন।এই প্রেক্ষাপটের কথা তুলে ধরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নোমান বলেন, সন্ত্রাসমুখর একটা নির্বাচন দেশে হচ্ছে। এতে সন্ত্রাসীরা অংগ্রহণ করছে। যারা ভোটার তারা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। কেন্দ্রের আশে-পাশেও যেতে পারছেন না। কেউ সাহস করে গেলে বা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী অংশ গেলে তারা সেখানে গুলি খেয়ে মৃত্যুবরণ করছে। এতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) 'আজ্ঞাবহ' আখ্যা দিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে অকার্য্কর' করে ফেলার ষড়যন্ত্র' করার অভিযোগ করেন আবদুল্লাহ আল নোমান।
তিনি ইসিতে কর্মরতদের সতর্ক করে বলেন, যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের বলব, এখনো সময় আছে, সাবধান হোন। চিন্তা করুন- জনগণের আকাঙ্খার বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ কোনো দিন লাভবান হতে পারে নাই। আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান চেষ্টা করেছে, তাদের পেছনের দরজা দিয়েই পালিয়ে যেতে হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ইসিকে বলব, আপনাদের চাকরি শেষ হলে আপনারা নির্বিঘ্নে সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করা... সেটা পারবেন না। ফখরুদ্দীন, মঈন উ আহমেদ কোথায়? দেশে নাই। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, দেশে সন্ত্রাসমুখর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও ভোটকেন্দ্রের আশপাশেও যেতে পারছেন না ভোটাররা। সাহস করেও সেখানে যেতে পারছে না কেউ। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী অংশের লোকজন গেলে তারাও গুলি খেয়ে মৃত্যুবরণ করছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২২ জনেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। এ মৃত্যুর দায় কে নেবে? দায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। কারণ, তারা সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।সরকারের উদ্দেশে বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ কোনোদিন লাভবান হতে পারেনি, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়ও থাকতে পারেনি। আইয়ুব খান-ইয়াহিয়া-এরশাদ চেষ্টা করেছে, কিন্তু তারা পারেনি। শেষ পর্যন্ত পেছনের দরজা দিয়ে তারা পালিয়ে গেছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না করলেও আপনাদেরকেও পেছনের দরজা দিয়ে পালাতে হবে। এখনো সময় আছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও চাওয়াকে গুরুত্ব দিন। অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসুন।