একাত্তরের ২৫ মার্চ কাল রাতের আঁধারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল বাঙালীদের। সেই কাল রাত স্মরণে নওগাঁয় শুক্রবার বের করা হয় আলোর মিছিল। সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদের আয়োজনে শহরের মুক্তির মোড় শহীদ মিনার থেকে আলোর মিছিল বের করা হয়।
আলোর মিছিলটির উদ্বোধন করেন নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুুল মালেক। উদ্বোধন শেষে সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুুল মালেকের নেতৃত্বে মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এর আগে বিকেলে মুক্তির মোড় শহীদ মিনারের বেদীতে ২৫ মার্চ রাতের গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, জাতীয় জীবনে সার্বিক আন্দোলন ও একাত্তরে একটি প্রত্যক্ষ গণযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল বাংলাদেশ কোনো সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে না। এই রাষ্ট্র হবে শোষণ-বঞ্চনাহীন এবং রাষ্ট্র পরিচালিত হবে ন্যায়-নীতির ভীত্তিতে। অসম্প্রদায়িক ও সুখী-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়াই আমাদের এখনকার যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে বর্তমান প্রজন্মকেই।
একুশে পরিষদের সভাপতি ডিএম আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, কবি ও সাহিত্যিক আতাউল হক সিদ্দিকী, নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম খান, নওগাঁ কলেজের সহকারি অধ্যক্ষ ড. মোস্তাফিজার রহমান, একুশে পরিষদের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা ওহিদুর রহমান, পরিষদের উপদেষ্টা ডা: ময়নুল হক দুলদুল, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের নওগাঁর সমন্বয়ক জয়নাল আবেদিন মুকুল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নওগাঁর সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মহসিন রেজা, পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এমএম রাসেল, উপদেষ্টা নাইস পারভিন প্রমুখ।
আলোর মিছিলে নওগাঁর বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিশু-কিশোর ও স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ করেন। মিছিলটি পরে পুনরায় মুক্তির মোড়ে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।