বরিশালে সহিংসতা থামছে না, ঠাঁই নেই হাসপাতালে

ভোট শেষ হলেও বরিশালে একের পর এক সহিংস ঘটনায় আহত হচ্ছে লোকজন। তাদের চিকিত্সার জন্য আনা হচ্ছে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। দক্ষিণ বঙ্গের সর্ববৃহত্ এ হাসপাতালটি ৫’শ শয্যার। স্বাভাবিকভাবেই এখানে সব সময় সহ্রসাধিক রোগী চিকিত্সাধীন থাকে। ভোটের হাওয়া গরম হতে না হতেই রোগীর সংখ্যা কয়েকশ বেড়ে যায়। এখনো থামেনি সেই পরিস্থিতি।
 
গতকাল শুক্রবার হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, বেডে ওঠার সুযোগ নেই। রোগীরা গায়ের চাঁদর কিংবা লুঙ্গি বিছিয়ে বারান্দাতে ঠাঁই নিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের দিন থেকেই রোগীর সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে যায়। পরদিন বুধবার ভর্তি হয় আহত আরো প্রায় একশ জন। ঐ দিন শুধু সদর উপজেলার ৩০ জনকে ভর্তি করা হয়। এছাড়া পটুয়াখালী থেকে ১৮ জন, বাকেরগঞ্জ থেকে ৮ জন, ঝালকাঠী থেকে ২২ জন, ভোলা থেকে ৯ জন, পিরোজপুর থেকে ১৬ জন ও বরগুনা থেকে ১৫ জন নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আহত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হন। ঐ দিন শেবাচিমে চিকিত্সাধীন ৮ জনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। গতকাল শুক্রবার দুপুর একটা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে সহিংসতায় আহত আরো ৩১ জন এখানে ভর্তি হন।
 
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত সহিংসতায় গতকাল দুপুর পর্যন্ত মোট ভর্তি হয়েছেন ৩২৬ জন। বেড ও চিকিত্সক সংকটের কারণেও রোগীদের দূর্ভোগ বেড়েছে। স্বল্প সংখ্যক সার্জারির ডাক্তার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না। অনেকের দেহে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও অপারেশন থিয়েটার ও চিকিত্সক সংকটের কারণে বহু রোগীকে অপেক্ষমাণ রাখতে হয়েছে। এতে ঐসব রোগীদের ক্ষতি হচ্ছে তা জেনেও চিকিত্সকরা অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন।
 
জরুরি বিভাগের চিকিত্সক মাসুদ মোল্লা জানান, হঠাত্ করে সহিংস ঘটনায় আহত রোগীর চাপ এত বেড়ে গেছে যে, জরুরি বিভাগ থেকে তাদের ওয়ার্ডে পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ট্রলি কিংবা পর্যাপ্ত জনবলও নেই। তাই স্বজনরাই কোলে কিংবা কাঁধে করে তিন-চার তলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
 
হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা ফাঁকা
 
যে সব এলাকা থেকে আহত রোগীরা বেশি আসছেন তাদের সাথে কথা  বলে জানা গেছে কয়েকটি এলাকায় নির্বাচন পরবর্তী হামলা ও মামলার টার্গেটে পরিণত হয়েছে সংখ্যা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, উজিরপুরসহ কয়েকটি হিন্দু অধুষ্যিত এলাকায় মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার হামলার পর বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অব্যাহত হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেকেই এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরাজিত প্রার্থীর কর্মীরা বিজয়ী প্রার্থীর কর্মীদের হামলার শিকার হচ্ছে। এ কারণে ভোটের মাঠে পরাজিত হয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরুষরা তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারের উপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর তারা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তবে পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি তাদের পুরো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংখ্যালঘুদের উপর হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।