একা লড়লেন মুস্তাফিজ

ইদানিং উইকেট পেয়েই করতালি দেয়ার অভ্যেসটা একটু কমে গেছে। তবে মুখে সেই শিশুদের মতো হাসি, চোখে আশ্চর্য এক ঝিলিক। আর সর্বশরীরে ভুবন জয় করা একটা ভঙ্গি দিয়ে বারবারই বুঝিয়ে দেন, তিনি এক বিস্ময়-বালক। হ্যাঁ, বিস্ময় বালকের নাম মুস্তাফিজুর রহমান।
 
গতকাল বিস্ময়টা টের পেলো নিউজিল্যান্ড।
 
বাংলাদেশের এই পেস বোলারকে নিয়ে সারা দুনিয়া জুড়েই গবেষণা চলছে। কেনো এত গবেষণা, তা এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ টের পাচ্ছিল না। গতকাল একেবারে ম্যাজিকের মতো করে জ্বলে উঠে শেষ করে দিলেন নিউজিল্যান্ডকে। তার জাদুকরী ডেলিভারিগুলোর সামনে পড়ে হতভম্ব নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১৪৫ রানে।
 
আর মুস্তাফিজ মাত্র ২২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে আরও একবার ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেললেন।
 
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে কোনো বোলারের সেরা বোলিং ফিগার দখল করে নিলেন মুস্তাফিজ। সেই সাথে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই পঞ্চম সেরা বোলার হয়ে গেলেন বাংলাদেশি এই বাঁহাতি পেসার। বাংলাদেশের হয়ে মাত্র দ্বিতীয় বোলার হিসেবে সংক্ষিপ্ততম এই ক্রিকেটে ৫ উইকেট শিকার করে ফেললেন।
 
দিনশেষে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় মুস্তাফিজের এই সাফল্য ম্লান হয়ে গেলেও আলাদা করে ঠিকই উজ্জ্বল হয়ে রইলেন এই পেস বোলার।
 
তার স্লোয়ার ও কাটার খেলতে কেন উইলিয়ামসনের মতো ব্যাটসম্যান হিমশিম খেয়েছেন। প্রথম স্পেলে হেনরি নিকলস, দ্বিতীয় স্পেলে কেন উইলিয়ামসনের উইকেট নিয়েছেন। আর শেষ স্পেলে গ্যান্ড ইলিয়ট, মিচেলে স্ট্যানার ও নাথান ম্যাককালাম—২২ রানে ৫ জনকে আউট। 
 
গতকালকের আগ পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপের সেরা বোলার ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার জেমস ফকনার। পাকিস্তানের বিপক্ষে মোহালিতে ২৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপের সেরা ৫ বোলিং পারফরম্যান্সের তালিকায় বাংলাদেশের আরও একজন আছেন। ১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে পঞ্চম সেরা সাকিব আল হাসান।
 
সবমিলিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ইনিংসে সেরা পারফরম্যান্স অজন্তা মেন্ডিসের। ২০১২ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনি ৮ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন। এই তালিকায় মুস্তাফিজ এক ধাক্কায় উঠে এসেছেন পাঁচ নম্বরে।
 
মুস্তাফিজকে যদিও দুনিয়া চেনে ওয়ানডে ক্রিকেটে তার রেকর্ড পারফরম্যান্সের কারণে। ভারতের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচেই ৫ বা ততোধিক উইকেটসহ নিয়েছিলেন ১১ উইকেট। এরপর দ্রুততম সময়ের ব্যবধানে তিন বার ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ডও তার। তবে এই কাটার-বয় মুস্তাফিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেই।
 
পাকিস্তানের বিপক্ষে গত বছর এপ্রিল মাসেই অভিষেক হয়েছিল তার। সেই ম্যাচে ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে আফ্রিদি ও হাফিজের দুটো উইকেট নেন অসাধারণ দুই ডেলিভারিতে। সেই ম্যাচ জয় দিয়েই শুরু করেছিলেন মুস্তাফিজ। এরপর ওয়ানডেতে বিশ্ব কাঁপিয়ে ফেলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে অতিমানবীয় বোলিং করে জাত চিনিয়েছেন। টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত উইকেট পেলেও ৪-৫ উইকেটের ত্রাসটা দেখা যাচ্ছিল না।
 
অবশেষে সেটাও করলেন মুস্তাফিজ। এবার নিজেকে সর্বজয়ী বলতেই পারেন।