এখনো নিরলসভাবে পতাকা সেলাইয়ের কাজ করে যাচ্ছেন জয়নাল আবেদীন। তিনি বদরগঞ্জে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা তৈরি করেছিলেন। দেশ স্বাধীন হয়েছে। তার তৈরি পতাকা মাথা উঁচু করে পত্ পত্ করে উড়ছে। কিন্তু গুণী এ মানুষটির ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।
আজও তিনি জীবন সংগ্রাম নামে এক দানবের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলছেন। বদরগঞ্জ উপজেলা শহরের পুরাতন বাজারের ফুটপাতে বসে পতাকা সেলাইয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই মানুষটি। স্ত্রী ফাতেমা বেগম, ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে নিয়ে তার সংসার। তবে ছেলে-মেয়ে সকলের বিয়ে হয়ে গেছে। জয়নাল আবেদীন বলেন, দেশ স্বাধীনের অন্তত ২০ বছর আগে থেকে আমি বদরগঞ্জ পুরাতন বাজারে কাপড় সেলাইয়ে কাজ করে আসছি।
আমি মেশিন নিয়ে ফুটপাতে বসে কাপড় সেলাই করতাম। সেই সময় আমার কাছে এসে বসতো খোরশেদ লোহানী, মজিবর মাস্টার, আবু বক্কর প্রামাণিক, শংকর দত্তসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা। তারা রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন গল্প করতেন। আমি কাপড় সেলাই করতাম এবং তাদের গল্প শুনতাম। গল্পের ফাঁকে একসঙ্গে সকলে চা খেতে রেল স্টেশনের সামনে বাদল দত্তের চায়ের দোকানে যেতাম। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পরেই দেশে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব শুরু হয়ে যায়। ঠিক সেই সময়ে একদিন খোরশেদ লোহানী এসে আমাকে বললেন, সবুজ কাপড়ের উপর লাল কাপড়ের বৃত্ত এবং লাল বৃত্তের উপর হলুদ কাপড়ের বাংলাদেশের মানচিত্র সেলাই করে একটি পতাকা তৈরি করে দাও। আমি তার কথামতো একটি পতাকা তৈরি করে দেই।
পতাকাটি প্রথমে বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উত্তোলন করা হয়েছিল। এরপর শুরু হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করার পর ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমাদের এ দেশ স্বাধীন হয়। ৯ মাস যুদ্ধ চলাকালে খানসেনা ও তাদের দোসর রাজাকার ও আল-বদরের তাণ্ডব দেখেছি শত্রুদের পরাস্ত করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হয়ে যাচ্ছে। অনেকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আমি আজও সেই সেলাই মেশিন নিয়ে বদরগঞ্জ পুরাতন বাজারের ফুটপাতে পড়ে রয়েছি।