হ্যাপি ‘বের ডে’ ঠাট্টা

 

  ইকবাল খন্দকার

 

কারও জন্মদিন হলে আমরা বলি—হ্যাপি বার্থ ডে। যেহেতু ‘ঠাট্টা’র সঙ্গে বের হওয়ার বিষয়টা বেশি মানানসই, অতএব ‘বার্থ ডে’র জায়গায় আমরা ‘বের ডে’ বলতেই পারি। তাই বলেও ফেললাম।

‘ঠাট্টা’ প্রথম বের হয়েছিল আজ থেকে ঠিক ১১ বছর ২ দিন আগে। এই কথাটাই বলছিলাম আমার এক বড়ভাইকে। গত পরশু তাকে বলছিলাম, ‘আজ থেকে ১১ বছর আগে ‘ঠাট্টা’ যাত্রা শুরু করেছিল।’

আমার কথা শুনে বড়ভাই যেন আকাশ থেকে পড়লেন। বললেন, ‘বলিস কী! মাত্র ১১ বছর আগে ঠাট্টা শুরু হয়েছে? কিন্তু আমি তো জানি আমাদের নানা-দাদারাও একজন আরেকজনের সঙ্গে ঠাট্টা-মশকরা করতেন। সেটা তো পঞ্চাশ-ষাট বছর আগের কথা। তো ঠাট্টা যদি মাত্র ১১ বছর আগে যাত্রা শুরু করে থাকে, তাহলে নানা-দাদারা পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে যেটা করত, সেটা কী?’

 বড়ভাইয়ের জটিলতর এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে আমি অন্যপথে হাঁটার চেষ্টা করলাম। বললাম, ‘ঠাট্টার তো বার্থ ডে। চলেন কেক কাটাকাটি করা যাক। তারপর খাওয়াখাওয়ি হবে।’

বড়ভাই বললেন, ‘এটা একটা বিপদের কাজ। ঝামেলার কাজ বলতে পারিস। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, কেক খেতে গেলে অনেক সময় নিজের চেহারাও চেনা যায় না।’

আমি বললাম, ‘অনেকে মুখে কেক মাথায়। মুখে বলতে মুখমণ্ডলে। তো মুখে কেক মাখালে একজন মানুষকে চেনা না-ই যেতে পারে। আপনি নিশ্চিত থাকেন, আমি আপনার মুখে কেক মাখাবো না। ’

বড়ভাই বললেন, ‘আমি কেক মাখানোর কথা বলিনি। কেক খেলে চেহারা চেনা যায় না অন্য কারণে। কারণটা বলতে গেলে একটা ঘটনা বলতেই হবে। একবার একজনের জন্মদিন উপলক্ষে কেক খেলাম। খেলাম মানে খাইয়ে দিল আরকি। তো আরেকজন খাইয়ে দিলে যা হয়। অসাবধানতাবশত লেগে গেল আমার খান্দানি গোঁফে। আমি ব্যাপারটা ততটা খেয়াল করলাম না। গোঁফ ভালো করে না ধুয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম। সারারাত আমার মুখে পিঁপড়ারা এত পরিমাণ কামড়ালো যে, মুখ ফুলে গেল। আমাকে আর চেনে কে!’

 আমি বললাম, ‘অন্যদের জন্মদিন আর ঠাট্টার জন্মদিন এক না। ঠাট্টার জন্মদিনে কেক খাওয়াতে গিয়ে কেউ আপনার গোঁফে মাখাবে না। অতএব চলেন কেক কাটা যাক।’

বড়ভাই বললেন, ‘এক কাজ করা যাক। যেহেতু ঠাট্টার সঙ্গে কৌতুকের বিষয়টা জড়িত, আর কৌতুকের প্রতিশব্দ হিসেবে যেহেতু ‘নকশা’ শব্দটি ব্যবহূত হয়ে থাকে, অতএব ঠাট্টার জন্মদিনে নরমাল কেক না কেটে নকশা কেক মানে নকশা পিঠা কাটা যেতে পারে।’

আমি বললাম, ‘নকশা পিঠা কাটা তো এত সহজ না। কারণ, নকশা পিঠা খুব শক্ত হয়।’

শক্তের কথা শুনে ভাই বলে উঠলেন, ‘এই কে আছিস! একটা ‘করাত’ নিয়ে আয়।’