টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ রাত আটটায় মোহালিতে ভারতের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া। যারা জিতেবে তারাই গ্রুপ-২ থেকে শেষ চারে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গী হবে।
আসরের শুরুতেই এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না পাওয়ার আক্ষেপ ঘোচানোর কথা বলে আসছেন অজি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। আর সেজন্য আজকের ম্যাচটিই বোধহয় সবচেয়ে বড় বাঁধা অস্ট্রেলিয়ার। ভারতকে কঠিন প্রতিপক্ষ মানলেও তাই জয়ের বিকল্প ভাবছে না অজিরা। নিজেদের শেষ খেলায় পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেয়া অল-রাউন্ডার জেমস ফকনার বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বড় একটি ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছি আমরা। যারা জিতবে তারাই সেমিফাইনালে চলে যাবে।’
হিসেবটা এক রৈখিক না হয়ে আরো জটিল হতে পারতো। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ বলে ভারতের বিশ্বাস করতে না পারা জয় আর অজিদের সঙ্গে পাকিস্তানের হার অঘোষিত কোয়াটার ফাইনালে দাঁড় করিয়ে দেয় স্মিথ এবং মাহেন্দ্র সিং ধোনির দলকে।
দেশের মাটি আর ব্যাটিং লাইন-আপ মিলিয়ে এবার ভারতকে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার মনে করেছিল সবাই। কিন্তু ক্রিকেট বোদ্ধাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করে বাজে পারফরম্যান্সে নিজেদের প্রথম খেলায় নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে শত রানের নিচে অল আউট হয় ধোনির দল। এরপর পাকিস্তানের সঙ্গে জিতলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে হারতে হারতে ভাগ্যের জোরে জিতে যায় ভারত। বিশ্বকাপের আগে অজিদেরকে তাদের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারিয়ে আসলেও তাই আজ নিশ্চিত ফেবারিট বলা যাচ্ছে না ধোনিদের।
অন্যদিকে টুর্নামেন্ট যত এগুচ্ছে ততই যেন নিজেদের সেরাটা নিয়ে আসছে অস্ট্রেলিয়া। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে শুরু করার পর বাংলাদেশের সঙ্গে ধুঁকে ধুঁকে জয়। কিন্তু নিজেদের সর্বশেষ খেলায় পাকিস্তানকে হারানোর ধরন নিশ্চয়ই আত্মবিশ্বাস যোগাবে স্মিথদের। বিশেষ করে আফ্রিদিদের বিপক্ষে ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে অজিরা। ওসমান কাজা আগে থেকেই ফর্মে ছিলেন। মিডেল অর্ডারে অজিদের স্বস্তি দিবে স্মিথের রানে ফেরা।
ওয়ানডেতে পাঁচটি বিশ্বকাপ জিতলেও এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপায় চুমু খাওয়া হয়নি অজিদের। পাঁচবারের চেষ্টায় প্রত্যেকবারই ব্যর্থ হয়েছে তারা। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর লড়াই। স্মিথদের শিরোপার তাড়না আরো বাড়িয়ে দিয়েছে শেন ওয়াটসনের অবসরের ঘোষণা। ২০০৭ এবং ২০১৫ বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থকে সম্মান জানাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফিটা নিয়েই দেশে ফিরতে চান ফকনার। অজি অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমাদের ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ে ফেরা প্রয়োজন ছিল। টানা দু’টি ম্যাচ জিতে সেটা করে দেখিয়েছি। বিশ্বকাপ জিততে এখন আমাদের তিনটি ম্যাচ জিততে হবে।’
শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সঙ্গে জিতলেও সেটা নিশ্চয়ই মন ভরাতে পারেনি ভারতীয় ভক্তদের। রবিচন্দ্রন অশ্বিন আর জাদেজার বোলিং ছাড়া কোন কিছুই মন মতো করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ব্যাটিং এবং বিশেষ করে ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
অজিদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিজেদেরকে তাই শিরোপা দাবিদার ভাবছেন না অশ্বিন। ভুলগুলো যত কাটিয়ে উঠতে পারা যায়, ততই ভালো। ভারতীয় স্পিনার বলেন, ‘আমরা সেন্তাষজনক ব্যাটিং করতে পারিনি। আমাদের ব্যাটিং ইউনিট খুবই ভালো। যখন সবাই নিজেদেরকে মেলে ধরতে পারবে তখন আমারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার হতে পারব। কিন্তু এই মুহূর্তে যেখানে আছি, তাতে আমরা শিরোপার দাবিদার নই।’-ডন