রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্দশ ব্যাচের শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাতের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে মানববনন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার বেলা ১১টার দিকে রবীন্দ্র কলা ভবনের সামনে ওই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগে বুধবার ওয়াহিদা সিফাত হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন, নিহত সিফাতের স্বামী মো. আসিফ, সিফাতের শ্বশুর মোহাম্মদ হোসেন রমজান, শাশুড়ি নাজমুন নাহার নাজলী এবং প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জোবাইদুর রহমান।
বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাহবুব আলমের সঞ্চালনায় এতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে, সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমদ, মশিহুর রহমান ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মীম বক্তব্য দেন। এ সময় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন নীলুফার সুলতানা, সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাতিল সিরাজ, মাহবুবুর রহমান রাসেল, প্রভাষক মামুন আ. কাইয়ুম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘ওয়াহিদা সিফাতের হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন বিষয়টি পরিষ্কার। হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হলেও আসামিরা বিভিন্নভাবে জামিনের পায়তারা করছে।’
এ সময় তারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজানের বাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয় গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতের। প্রথমে সিফাত আত্মহত্যা করেছেন বলে তার শশুরবাড়ির লোকজন দাবি করলেও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় মহানগরীর রাজপাড়া থানায় সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার বাদী হয়ে সিফাতের স্বামীসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন।