আগামী সাতদিনের মধ্যে ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকারীদের গ্রেফতারের আশ্বাসে আড়াই ঘণ্টাপ পর দুপুর দুইটায় মহাসড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছে প্রতিবাদী শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আদর্শ সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় তনু হত্যাকারীদের শনাক্ত বা গ্রেফতারসহ বিচার দাবিতে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ভিক্টোরিয়া কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এদিকে প্রতিবাদী ছাত্র ও বিভিন্ন সংগঠনসহ গণজাগরণ মঞ্চের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ে অপেক্ষায় আছেন কখন কুমিল্লায় পৌঁছাবে গণজাগরণ মঞ্চের রোর্ড মার্চ।
জানা গেছে, তনু হত্যার প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, বাছিক শিল্প চর্চা কেন্দ্র, বন্ধু মহল, কুমিল্লাস্থ মুরাদনগর ছাত্রকল্যাণ পরিষদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছাড়াও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা কোটবাড়ি-নন্দনপুর এলাকায় অবরোধ সৃষ্টি করে রাস্তায় টায়ারে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে। অবরোধের কারণে উভয় দিকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি প্রশান্ত পালসহ হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে পরিস্থিতি অনেকটা পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে অবরোধস্থলে পৌঁছেন কুমিল্লা সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। পরে দুপুর দুইটার দিকে অবরোধস্থলে যান কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন, হাইওয়ে পূর্বাঞ্চলের পুলিশ সুপার রেজাউল করিমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় তারা অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর তনু হত্যাকারীদের আগামী সাতদিনের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে এমন আশ্বাস দিলে দুপুর দুইটার দিকে প্রতিবাদীরা অবরোধ তুলে নেয়। এতে দুপুর দুইটার পর থেকে ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল শুরু হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রশান্ত পাল তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।