সাদাফ আমিন
মানুষ বড়ই আজিব কিসিমের পাগল। প্রেমে প্রতারণা তার একটি কঠিন উদাহরণ। কবি বলেছিলেন, মানুষ সময়ে অসময়ে বদলায়। কিছুটা ভুল কথা। আজকাল কিছু মানুষ বদলায়, কিছু মানুষ বদলায় না। একই পথে মানুষটা একই থাকে কেবল বদলে যায় হাত ধরে থাকা অপর মানুষটা। সম্ভবত তারা ‘এ বিশ্বে, এ মনে নতুনকে দিতে হবে স্থান’ এরকম কোনো সুকান্তীয় মতবাদে বিশ্বাসী।
শোনা যায়, আজকালতারা নাকি গায়ের কাপড়ের মতো প্রেমিক বা প্রেমিকা বদলায়। এই বদলানোর চিপায় পড়ে আবার আমার মতো সিঙ্গেলদের প্রাণের অবস্থা সকরুণ, নিঃশ্বাস যায় যায়।
আরও শোনা যায়, আজকাল একজনে আর প্রেমিক বা প্রেমিকাদের মন ভরে না। নতুন চাই, পাক্কা নতুন, টাটকা ও সতেজ।
থাক, আর জ্ঞান কপচাব না। বরং চলুন আজ জেনে নিই যদি কখনো প্রেমে ঠকি বা প্রতারিত হই তবে আমাদেরজন্যে কী কী আইনি প্রতিকার রয়েছে—
v প্রেম-সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের শাস্তির বিধান আছে দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারা থেকে ১৯৬ ধারা পর্যন্ত, যার অধিকাংশ অপরাধই জামিন অযোগ্য।
v ধারা ১৯৩ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নারীকে বা পুরুষকে প্রতারণামূলকভাবে সত্যিকারের প্রেম বলে বিশ্বাস করান, কিন্তু আদৌ ওই প্রেম আইনসম্মত এবং সত্যিকার না হয় এবং ওই নারী বা পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন, তবে অপরাধী ২০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
v ধারা ১৯৪ এ বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি এক প্রেমিক বা এক প্রেমিকা জীবিত থাকা সত্ত্বেও পুনরায় প্রেম করেন, তাহলে দায়ী ব্যক্তি ১৭ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
v এবং ১৯৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয় বা পরবর্তী প্রেম করার সময় প্রথম বা আগের প্রেমের তথ্য গোপন রাখেন, তা যদি দ্বিতীয় প্রেমিকা বা প্রেমিকা জানতে পারেন, তাহলে অপরাধী ১৫ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
v ধারা ১৯৬ মতে, যদি কোনো ব্যক্তি আইনসম্মত প্রেমের আনুষ্ঠানিকতা ব্যতীত (অর্থাত্ ট্রিটের ভয়ে বন্ধুমহলকে না জানিয়ে) প্রতারণামূলকভাবে প্রেম সম্পন্ন করেন অথবা বিয়ে করেন, তাহলে অপরাধী ১২ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
v এছাড়া কোনো প্রেমিক বা প্রেমিকা যদি অপরজনের অনুমতি ব্যতীত নিজেদের অন্তরঙ্গ ছবি ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে অথচ আদৌ কোনো সত্যিকারের প্রেম সম্পন্ন হয়নি তাহলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করার সুযোগ আছে এবং এ মামলা থানায় করতে হবে।