বিচার বিভাগ স্বাধীন তা আবারো প্রমাণিত হলো: হানিফ

 
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের আদালত অবমাননা রায়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। রবিবার আপিল বিভাগ এই দুই মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড দেয়।
 
সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর রায়ের পর মুখ খুলতে চাচ্ছেন না আওয়ামী লীগের নেতারা। যদিও মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক রায়ে প্রমাণিত হয়েছে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন।’
 
সর্বোচ্চ আদালত দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাইছেন না। তারা বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে সতর্কভাবে কথা বলতে দলের শীর্ষ পর্যায় হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
 
রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত নিয়ে কোনোদিন কিছু বলিনি, আর বলবও না। আমরা আইনে বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আইনে বিশ্বাস করেন। তাই তিনিও আদালত সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেন না।’ তিনি বলেন, ‘আজ কোর্ট একটা জাজমেন্ট দিয়েছে। এটা আইনগত ব্যাপার। আমি আমার তরফ থেকে এর পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো কিছু বলব না।’
 
আওয়ামী লীগের আরেকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘দল থেকে আমাদের বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে কেউ যেন মন্তব্য না করেন। সাধারণ সম্পাদক কিংবা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ সাহেব দলের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে কথা বলবেন।’
 
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘ন্যায় বিচারের স্বার্থে যা করার তাই করছে বিচার বিভাগ। দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক রায়ে প্রমাণিত হয়েছে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের রায় দেওয়ার কোনো নজির নেই। বর্তমান সরকার স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় বিশ্বাসী।’
 
প্রসঙ্গত গত ৫ মার্চ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আলোচনা সভায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে বাদ দিয়ে মীর কাসেমের মামলার আপিল শুনানি পুনরায় করার দাবি জানান দুই মন্ত্রী। এ বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশের পর গত ৮ মার্চ দুই মন্ত্রীকে তলব করেন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। গত ১৫ মার্চ দুই মন্ত্রী আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন। তবে খাদ্যমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় তার পক্ষে আদালতে সময় চাওয়া হয়েছিল। আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য ২০ মার্চ দিন পুনঃনির্ধারণ করে। ২০ মার্চ দুই মন্ত্রী আদালতে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। কিন্তু খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় ২৭ মার্চ তাদের দুজনকেই ফের আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়। রবিবার আদালতে হাজির হলে আপিল বিভাগ এই রায় ঘোষণা করে।