পাষণ্ড স্বামীর হাতে স্ত্রী-সন্তান নির্মম ভাবে খুন হওয়ার ৪দিনের মাথায় রবিবার খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলায় এবার লিপি রাণী দে (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ লিপি রাণী দে’র স্বামী উজ্জ্বল কান্তি দে (৩০) ও ভাসুর লিটন দে’কে আটক করেছে।
লিপি রাণী দে’র বড় ভাই যীষু কান্তি দে মুঠোফোনে অভিযোগ করে বলেন, স্বামী উজ্জ্বল ও তার পরিবারের সদস্যরাই লিপিকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, ৬ বছর আগে গুইমারার ডাক্তার টিলার সুখেন্দ্র কান্তি দে’র ছেলে উজ্জ্বলের সঙ্গে লিপির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৫ বছর বয়সের মানসিক প্রতিবন্ধী একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলে তার বোনকে শারীরিক নির্যাতন করতো উজ্জ্বল। এনিয়ে গুইমারায় বেশ কয়েকবার গ্রাম্য সালিশও হয়েছে।
গুইমারা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. মশিউর রহমান বলেন, থানাধীন ডাক্তার টিলা গ্রামে লিপি রাণী দে নামে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেয়ে গুইমারা বাজার থেকে তার স্বামী উজ্জ্বল কান্তি দে ও ভাসুর লিটন দে’কে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আটক উজ্জ্বল দে তাদের জানান, জনৈক এক যুবকের সঙ্গে তার স্ত্রী লিপি’র পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। গত শনিবার রাতেও এ নিয়ে লিপির সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি তাকে মারধর করেন বলেও স্বীকার করেছেন।
থানার উপ পরিদর্শক আরও বলেন, রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লিপি রাণীর অসুস্থতার কথা বলে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসককে তাদের বাড়িতে ডেকে আনে স্বামী উজ্জ্বল দে। ঐ ডাক্তারের কথামত উজ্জ্বলের স্বজনরা অচেতন অবস্থায় লিপিকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে পল্লী ছোটন কুমার পাল বলেন, রবিবার সকাল সাড়ে ৭টায় উজ্জ্বল কান্তি দে মোবাইল ফোনে তার স্ত্রীর অসুস্থ্যতার কথা জানিয়ে দ্রুত ঔষধপত্র ও স্যালাইন নিয়ে তাদের বাড়িতে আসতে বলে। সকাল ৮টায় তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় লিপি অচেতন হয়ে পড়ে আছে। তার চোখ ও হাতের পালস দেখে মৃত বুঝতে পেরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি আরো জানান, লিপির শাশুড়ি শেফালী দে ও ঝাঁ তাকে জানান, লিপি গত ৩-৪দিন ধরে ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করেনি । তাই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পুলিশের হাতে আটক উজ্জ্বল দে সাংবাদিকদের বলেন, ‘লিপির সঙ্গে ফটিকছড়ি উপজেলার হাসনাবাদ এলাকার ইলিয়াছ নামে এক যুবকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলছিল। এ দিয়ে সংসারে পারিবারিক কলহ লেগে থাকতো। বেশ কয়েকবার সালিশ বিচারও হয়েছে।
শনিবারও ঐ যুবকটির সঙ্গে সে দেখা স্বাক্ষাৎ করেছে। এনিয়ে রাতে কথা কাটাকাটির পর তাকে মৃদু মারধরও করেছি।’ কিন্তু ঠিক কি কারণে বা কিভাবে লিপির মৃত্যু হলো সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
গুইমারা থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক মো. ইয়াছিন বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে লিপি রাণী দে’র লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে । এর রিপোর্ট পাওয়ার পর লিপির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি বলেন। তিনি আরও বলেন, নিহতের বড় ভাইসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনরা খবর পেয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপর থানার শান্তিরহাট গ্রাম থেকে গুইমারা থানায় এসেছেন। তারা মামলা রুজুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।