ঠাকুরগাঁওয়ে নির্যাতনের ফুটেজ ফেসবুকে, মামলা ও গ্রেফতার

ঠাকুরগাঁওয়ে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এক ছাত্রকে দেড় বছর আগে পেটানোর দৃশ্য ফেজবুকে ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক গণমাধ্যমসহ পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা করা হয় ও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  
 
রবিবার দিবাগত রাতে মামলার অন্যতম আসামি মেহেদী হাসানকে ঢাকায় আটকের পর পুলিশ সোমবার সকালে  ঠাকুরগাঁও থানায় নিয়ে যায়। 
 
এর আগে শনিবার রাতে ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিটের নির্যাতনের শিকার ছাত্র শামীম সরকার বাদী হয়ে সহপাঠী মেহেদী হাসান, শশি জিৎ রায়, মেজবাউল হাসান দুর্জয়, আবুল কালাম আজাদ, মাজহারুল ইসলাম, আবু হানিফা, রাশেদুজ্জামান রাশেদ, আব্দুল জলিলকে আসামি করে থানায় মামলা করে।
 
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১০ সালে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আব্দুল খালেক সরকারের ছেলে শামীম সরকার ফুড বিভাগে ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়। ২০১৪ সালে ২৯ নভেম্বর সকাল ১১টায় সহপাঠী মেহেদী ও শশী জিৎ জরুরি কথা আছে বলে কলেজের নিচতলার ড্রয়িং রুমে নিয়ে যায়। এর পর সেখানে থাকা অন্য সহপাঠীরা কাঠ ও ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে তাকে বেধড়ক পিটায়। এক পর্যায়ে তারা তাকে হত্যারও হুমকি দেয়। তাদের অমানসিক নির্যাতনে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় মেহেদী ক্রীড়া সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতির জন্য তার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। এর পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তাদের হত্যার হুমকিতে শামীম বিষয়টি চেপে যায়।
 
প্রায় দেড় বছর আগে অমানসিক ওই নির্যাতনের ভিডিও দৃশ্য তারা এ বছরের ১৮ মার্চ শুক্রবার ইউটিউব থেকে ফেজবুকে আপলোড করে। এতে আমাকে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানি করা হয়। আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছি।
 
ঠাকুরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কওসি মশিউর রহমান বলেন, ‘তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’