সারপ্রাইজ গিফট

 

 শিমুল শাহিন

 

কয়েকদিন পরেই নীলার জন্মদিন। নীলার এই জন্মদিনটা আমার কাছে যতটা না আনন্দের, তারচেয়ে বেশি আতঙ্কের! গত পনের দিন থেকে নীলার জন্মদিনটা আমার কাছে গলায় বিঁধে থাকা মাছের কাঁটার মতো অনুভূত হচ্ছে! ওর জন্মদিনটা পার না হওয়া পর্যন্ত স্বস্তি আসবে না সেটা বলাই যায়! নীলার সাথে যখনই দেখা হয় বা মুঠোফোনে কথা হয়, ওর সেই একই আবদার, ‘বলো না, এবারের বার্থ ডেতে আমায় কী দেবে?’’

আমার গলা বেয়ে আওয়াজ বের হয় না, শুধু শূন্য মানিব্যাগটার দিকে তাকিয়ে শুধু একটার পর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলি! নীলা নাছোড়বান্দা, ওর জোরাজুরিতে শেষমেশ বলে ফেললাম, ‘এখন বলব না, তোমাকে সারপ্রাইজ দেব!’

আমার এমন কথা শুনে নীলা আনন্দে আটখানা। সচরাচর আমি কখনো তেমন কিছু কিনে দিতে পারিনি নীলাকে! সুতরাং ও ধরেই নিয়েছে যেহেতু এইবার সারপ্রাইজ দেব বলেছি সুতরাং বেশ দামি কিছুই দেব নিশ্চয়ই!

নীলাদের বাসায় ছোটখাটো একটা ঘরোয়া পার্টি চলছে ওর জন্মদিন উপলক্ষে। বেশকিছু নিকট আত্মীয়স্বজন আর ওর কয়েকটা বন্ধুবান্ধবীর উপস্থিতিতে বেশ মেতে উঠেছে পার্টির পরিবেশ! অভ্যাগত হয়ে আমিও এসেছে, নীলা অবশ্য সবার সাথে আমাকে প্রেমিক নয়, বন্ধু হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে! কেক কাটা, ডিনার, ছবিতোলা পর্ব শেষ হয়েছে; যে যার মতো আলাপে ব্যস্ত এখন! নীলাও বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে! পার্টির এমন কোলাহল অসহ্য ঠেকল আমার কাছে, বেরিয়ে এলাম নীলার অগোচরে!

ঠিক রাত ১২টার দিকে নীলার ফোন এলো আমার কাছে। আমি জানি বেশ তেঁতে আছে নীলা! ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে ও বলল, ‘তুমি আমায় না বলে মেসে চলে গেলে কেন?’

গলার স্বর নরম করে বললাম, ‘আসলে অত ভিড়ের মধ্যে থাকতে ভালো লাগছিল না, তাই চলে এসেছিলাম। তুমি ব্যস্ত ছিলে বলে না জানিয়ে চলে এসেছিলাম!’

রাগ সংবরণ করে অনেকটা উপহাসের স্বরে নীলা বলল, ‘তা চলে গিয়েছ ভালোই করেছ, কিন্তু আমার গিফট কই? তুমি না বলেছিলা আমায় সারপ্রাইজড করবা?’

বললাম, ‘আমি যে তোমায় গিফট দিইনি, তোমার অবাক লাগছে না?’

‘সেটাই তো! আমি তো রীতিমত অবাক হচ্ছি! সকলে কত কী দিল, আর তুমি আমার বয়ফ্রেন্ড হয়েও কোনো গিফট দিলে না! আই অ্যাম ব্যাডলি সারপ্রাইজড!’

হাসতে হাসতে বললাম, ‘এই তো হয়ে গেল! তোমায় কথা দিয়েছিলাম তোমায় সারপ্রাইজড করব, আমার কথা তো আমি রেখেছি!’

অনেকটা রেগে গিয়ে নীলা বলল, ‘কী সব বলছ তুমি!’

নীলার রাগকে পাত্তা না দিয়ে বললাম, ‘তোমায় সারপ্রাইজড করাটাই আমায় মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল! আমি সেটা করেছিও—ওটা গিফট দিয়েই হোক বা গিফট ছাড়াই!’

আমার কথা শেষ হতেই টুট টুট শব্দ করে কলটা কেটে দিল নীলা। আমি জানি এখন ওকে শতবার ফোন দিলেও ধরবে না, তারচে বরং একটা মেসেজ দেওয়াই ভালো। মুঠোফোনটা হাতে নিয়ে ওকে মেসেজে লিখছি, ‘নীলা, এবার যা হইসে ভুলে যাও! তবে হ্যাঁ, সামনের বার্থডেতে তোমায় সত্যি সত্যি সারপ্রাইজড করব কথা দিলাম!’