মাহবুব নাহিদ
হাবলু আজ খুবই উত্তেজিত। সে কিছুটা ভারাক্রান্তও বটে। আজ এক বন্ধুর জন্মদিন ছিল। জন্মদিনের সকল আয়োজনই সে করেছে, এমনকি কিছু টাকা পয়সাও তার পকেট থেকে গেছে। এত কিছু বিসর্জনের পরেও দুঃখের বিষয় হলো যে, একটা ফোঁটা কেক সে খেতে পারল না। কেক কাটার সময় বন্ধুরা সবাই এমন ঝাঁপাঝাঁপি আর ঠেলাঠেলি করল যে কেক পর্যন্ত হাবলু পৌঁছাতেই পারল না। অন্য সবাই কাড়াকাড়ি করে কেক খেয়ে ফেলল। তবে এই দুঃখের মাঝেও হাবলুর জন্য একটি আশার দিক হলো আজ যার জন্মদিন ছিল তাকে সবাই-ই কেক খাইয়ে দিয়েছে। অর্থাত্ তার নিজের যেদিন জন্মদিন আসবে সেদিন প্রাণ ভরে কেক খেতে পারবে। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—হাবলুর জন্মদিন। কিন্তু তার জন্মদিন সম্পর্কে কেউ তো জানেই না। ফেসবুক টাইমলাইনে ডেট অ্যাড করা আছে, তবুও কেউ দেখছে না। তাই হাবলু কুলকিনারা না পেয়ে এক বান্ধবীকে ধরে জোর করে তাকে দিয়ে ফেসবুকে ‘শুভ জন্মদিন’ পোস্ট দেওয়ালো। জানতে পেরে বন্ধুরা জন্মদিন উদযাপনের আয়োজন করল। এবার কেক কাটার পালা। কেক কাটার সাথে সাথেই হাবলু আশায় বসে আছে কখন তাকে খাইয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, কে যেন একটা এসে পুরোটা কেক তার মুখে-মাথায় মাখিয়ে দিল, আর ডিম থেরাপিও দিল। কেক হাবলুর আর খাওয়া হলো না। এবার সে কষ্টে দুঃখে নিজের শরীরে লাগা কেক হাতের আঙুলে নিয়ে চেটে চেটে খাওয়া শুরু করল আর বলতে লাগল, ‘হায়রে কেক! মজা করে তো আর খেতে পারলাম না। এখন চেটে চেটে খাই আর ডিমটা সাথে ফ্রি খাই!’
ঢাকা