আফফান ইয়াসিন
মুকছুদুল আলম ভাই। একজন রসিক মানুষ! ক্যাম্পাসে মুকছুদুল আলম ভাই আছে আর সবাই হাসিখুশিতে থাকবে না এটা তো কল্পনার বাইরে। মুকছুদুল আলম ভাইয়ের বছরে তিনবার বন্ধু এবং ছোট ভাইদের বাধ্যতামূলক ট্রিট প্রদান করতে হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি তার সার্টিফিকেট জন্মদিন। ১৮ মার্চ ফেসবুক জন্মদিন এবং ৫ ডিসেম্বর ভাইয়ের রিয়েল জন্মদিন। ভাই প্রায় আক্ষেপ করে বলে কেন তিনটি বার্থডের কথা সবাইকে জানিয়ে দিলাম! আজ দুই বছরের অবধি ভাই সবাইকে এই বার্থডে উদযাপন ও ট্রিট দিয়ে আসছে। ৪ ফেব্রুয়ারি মোটামোটি প্রচুর শীত। রাত ১১টা ৩০ মিনিট। এদিকে মুকছুদ ভাইয়ের সব বন্ধু প্রতিবারের ন্যায় কেক, বাজি, বেলুন ও স্প্রে নিয়ে প্রস্তুত। মুকছুদুল আলম ভাইয়ের ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক তাকে উপস্থিত করা হলো। এদিকে আমরা ছোট ভাইয়েরা আগেই উপস্থিত হয়েছি। মুকছুদ ভাইয়ের বার্থডে বলে বলে বেশ কয়েকবার চারদিকে তরঙ্গায়িতও হয়েছে। কেক কাটা ও বাজি ফুটানোসহ সব কাজ শেষ। এবার ট্রিট নেওয়ার পালা। কিন্তু না! মুকছুদ ভাইয়ের বন্ধুরা পিছন থেকে কী যেন বলে সামনের দিকে এগিয়ে এলো। এসেই মুকছুদ ভাইকে তুলে নিয়ে হাসতে হাসতে ছুটলেন হলের সামনে অবস্থিত সুইমিং পুলের দিকে। ব্যাপারটা বুঝে ওঠার আগেই মুকছুদ ভাইকে সুইমিংপুলে নিক্ষেপ করে সবাই দৌড়। তবে মুকছুদ ভাই একাই ভিজেনি সাথে অন্য দুজনকেও। তারপর মুকছুদ ভাইসহ তিনজন মিলে প্রায় ছোট-বড় সবাইকে শীতের রাতে ভিজিয়েছে। অবশেষে ট্রিটের বায়না ধরে সবাই ফ্রেস হয়ে চললাম বার্থডে ট্রিটের জন্য। পেটিস থেকে শুরু করে অনেক কিছুই খাওয়া হলো। মজার ব্যাপারটি ছিল ছোট-বড় সবার মুখে মুখে প্রশ্ন পরের বার্থডের তারিখ কবে?
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়