নির্যাতিতা খুরশিদার চিকিৎসা ও মামলার দায়িত্ব নিলেন সংসদ সদস্য

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে নির্যাতিতা নারী শ্রমিক খুরশিদা বেগমের চিকিৎসা ও মামলার দায়িত্ব নিয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য নুরজাহান বেগম মুক্তা।
 
তিনি মঙ্গলবার দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া গ্রামের নির্যাতিতা খুরশিদা বেগমের বাড়ি গিয়ে তার খোঁজ খবর নেন। এদিকে খুরশিদা বেগমের উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নেন এবং রামগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোতা মিয়াকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুরশিদা বেগমকে নির্যাতনকারী আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি তার মেয়ের কর্মসংস্থানের জন্য একটি সেলাই মেশিন দেন এবং ভবিষ্যতে খুরশিদা বেগমকে যেন রাস্তা নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতে না হয় সে ব্যবস্থা করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি ।
 
এ সময় রামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আ ক ম রুহুল আমিন, ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দেওয়ান বাচ্চু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুরাইয়া আক্তার শিউলী ও রামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
 
উল্লেখ্য, গত ২২ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া গ্রামে নির্মাণ শ্রমিক খুরশিদা বেগম রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় হাছিনা বেগম নামে এক নারী তাকে জোর করে টেনে হিচড়ে বাড়িতে ডেকে নেন। পরে হাছিনার স্বামীর সঙ্গে খুরশিদার পরকীয়া প্রেম রয়েছে দাবি করেন হাছিনা। পরে হাছিনার ভাই আবদুল আজিজ ও ফারুকসহ ৭/৮ জন মিলে খুরশিদাকে গাছের সাথে বেঁধে বেদম প্রহার ও শ্লীলতাহানী করে। এক পর্যায়ের তারা খুরশিদার মাথার চুল কেটে মাথায় চুন-কালি মেখে জুতার মালা পরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই রামগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হলে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হাছিনা বেগমকে গ্রেফতার করে।
 
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোতা মিয়া জানান, খুরশিদা বেগমকে নির্যাতনের ঘটনায় ওই দিনই নির্যাতনকারী হাছিনাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।