‘টেকসই উন্নয়নে নারীর ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা

‘কেবল সমতা নয়, দিতে হবে প্রাপ্য অধিকার’

নারীদের কেবল সমতাই নয়, তাদের দিতে হবে প্রাপ্য অধিকার। নারীদের এগিয়ে নিতে সম্পদে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আনতে হবে নারী পুরুষের মনোভাবের পরিবর্তন। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসফে) আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নে নারীর ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। 
 
পিকেএসএফ ভবনে মঙ্গলবার এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। পিকেএসএফর সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. নাসরীন আহমাদ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিকেএসএফ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম। পিকেএসএফ এর সহযোগী সংস্থার নারী প্রতিনিধিরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন। 
 
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ তার বক্তব্যে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ প্রেক্ষিতে সেমিনারে অংশগ্রহণকারী সকলে একসঙ্গে সোচ্চার হয়ে এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
 
আলোচনায় অংশ নিয়ে পিকেএসএফ এর সদস্য অধ্যাপক শফিক আহমেদ বলেন, নারী-পুরুষের মনোভাবের পরিবর্তনই নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে মানসিক ভাবে পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি সম্ভব না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা কেবল কগজ-কলমেই থেকে যাবে।
 
ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে আইসিটি খাতে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ৫৯ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে ৫ শতাংশেরও কম নারী এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ সময় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী-পুরুষের বৈষম্য নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।
 
সেমিনারে নারীদের কার্যকর ক্ষমতায়নের জন্য বিভিন্ন সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হয়। এসময় নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কিছু সুপারিশ করা হয়। এগুলোর মধ্যে নারী নীতির যথাযথ প্রয়োগ, নারী পুরুষের সমতা বিধান, সম্পদে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার, পরিবহন, গৃহায়ন, সুবিধা নিশ্চিত করা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে পরিবার এবং বাইরে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করতে হবে।