ফেনীর পরশুরামে ছোট ভাই মো. শেখ ফরিদকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে বড় ভাই মো. বাবুল মিয়াকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশের আদেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার ফেনীর অতিরিক্ত দায়রা জজ নিলুফার সুলতানা এ রায় প্রদান করেন। এ সময় আসামি মো. বাবুল মিয়া পলাতক ছিলেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ বা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তার সাজা কার্যকর হবে।
মামলার এজাহারের সূত্র ও সহকারী সরকারি কৌঁসুলী দ্বিজেন্দ্র কুমার কংশ বনিক জানায়, মামলার বাদী মো. গুড়া মিয়া পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের মধ্যম ধনিকুন্ডা গ্রামের অধিবাসী। তার পাঁচ ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মো. বাবুল মিয়াকে বিয়ে করানোর পর থেকে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। এ অবস্থায় তিনি তাকে (বড় ছেলে) একই ঘরের একাংশে থাকার সুযোগ দিয়ে পরিবার থেকে পৃথক করে দেন। ২০০৪ সালের ৫ এপ্রিল সকালে বাবুল মিয়া তার শ্বশুরের পরামর্শে নিজ বাড়ির সামনে ঘর করার জন্য মাটি কেটে ঘরের ভিটি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বাবা মো. গুড়া মিয়া এ সময় ছেলে বাবুলকে মাটি কাটার কাজে বাধা দিতে যায়। এ নিয়ে বাপ-ছেলের কথা কাটাকাটি ও তর্ক-বিতর্কে এক পর্যায়ে ছেলে বাবুল তার বাবা গুড়া মিয়ার ওপর হামলা করে। এ সময় চতুর্থ ছেলে শেখ ফরিদ বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে বড় ভাই বাবুল ছেটে ভাই শেখ ফরিদকে কোদাল দিয়ে মাথায় কুপিয়ে আহত করে। সঙ্গে সঙ্গে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে শেখ ফরিদকে সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন ধনিকুন্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে এবং একই দিন ঢাকায় স্থানান্তরের সময় পথিমধ্যে শেখ ফরিদ মারা যায়।
এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে বড় ছেলে মো. বাবুল মিয়া ও তার শ্বশুর-দুর্গাপুর গ্রামের গুড়া মিয়াসহ দুইজনকে আসামি করে ৭ এপ্রিল পরশুরাম থানার একটি হত্যা মামলার দায়ের করেন।
পরশুরাম থানার এসআই আবুল কাশেম তদন্ত শেষে একই বছরের ২৫ জুলাই শুধুমাত্র বড় ছেলে মোঃ বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার শুনানি শেষে মঙ্গলবার এ রায় প্রদান করা হয়।