ইসিতে সাতক্ষীরার পুলিশ কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভোটে অনিয়ম রোধে ব্যর্থতার জন্য সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার ও পাঁচ ওসিকে ভর্ৎসনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
 
বুধবার ব্যর্থতা নিয়ে তাদের ব্যাখ্যায় ‘অসন্তোষ’প্রকাশ করে দু’সপ্তাহের মধ্যে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। যত দ্রুত সম্ভব আসামিদের গ্রেফতার, তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়ে ইসি সতর্ক করে বলেছে, ফের ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
 
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন ইসির অধীনে অনিয়ম রোধে কঠোর নির্দেশনার পরও যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা।
 
বুধবার শুনানিতে ইসির প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে ‘নীরব ভূমিকা’ পালন করেন তারা। সাতক্ষীরার পাঁচ উপজেলায় ভোটের আগে ব্যালট পেপারে সিল মারাসহ অনিয়ম রোধে ব্যর্থতার বিষয়ে এদিন এসপি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির ও পাঁচ ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, এনামুল হক, শেখ মাসুদ করিম, এমদাদুল হক শেখ ও তরিকুল ইসলামের ব্যাখ্যা শোনে ইসি। বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ইসির সম্মেলন কক্ষে সিইসি ও কমিশনারদের মুখোমুখি হন তারা।
 
শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে সার্বিক বিষয়ে ব্যাখ্যা শুনেছি। এ নিয়ে আমাদের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি দুটোই জানিয়েছি। তাদের ভুল ধরিয়ে দিয়েছি, তারা এখন তা বুঝতে পেরেছে। কিছু ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে তারা।
 
বেলা ২টায় ইসির সম্মেলন কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসপি মঞ্জুর বলেন, ‘আমার বক্তব্য সুস্পষ্ট- আমার কোনো বক্তব্য নেই। আমার কোনো মন্তব্য নেই।’
 
শুনানিতে উপস্থিত ইসির একাধিক কর্মকর্তারা বলেন, এই প্রথম ইসি কোনো কর্মকর্তাকে তলব করে ব্যাখ্যা চেয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা তেমন সদুত্তর দিতে পারেননি। ইসি বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
 
বেলা ১১টায় ইসিতে হাজির হন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার এবং সদর, তালার পাটকেলঘাটা, শ্যামনগর, কলারোয়া ও দেবহাটার ওসি। এসময় ইসির সম্মেলন কক্ষে সিইসি, তিন নির্বাচন কমিশনার, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে শুনানি সামনে রেখে শেরেবাংলা নগরস্থ ইসি কার্যালয়ের একাংশে সাংবাদিক প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।